কোর্সের পাঠ ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে লেখা
সূচিপত্র
আপনি যখন অনলাইনে বা ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে একটি ফ্লাইটের বুকিং করেন, তখন আপনার কাছে কিছু কোড বা নম্বর আসে। এই কোডগুলোর মধ্যে একটি হলো PNR এবং অন্যটি হলো ই-টিকেট নম্বর। অনেকেই এই দুটি বিষয়কে গুলিয়ে ফেলেন, যা পরে এয়ারপোর্টে বড় ধরনের সমস্যার কারণ হতে পারে।
সহজ কথায় বলতে গেলে, ই টিকেট কি? ই-টিকেট বা Electronic Ticket (ET) হলো পেপার টিকেটের একটি ডিজিটাল সংস্করণ। এটি মূলত একটি ইলেকট্রনিক রেকর্ড যা এয়ারলাইন্সের নিজস্ব ডাটাবেসে সংরক্ষিত থাকে এবং এটি আপনার ভ্রমণের একটি বৈধ আর্থিক দলিল।
ই-টিকেট (e-ticket) আসলে কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?
আগের দিনে যাত্রীদের হাতে একটি কাগজের টিকিট দেওয়া হতো, যা দিয়ে তারা বিমানে চড়তে পারতেন। কিন্তু আধুনিক যুগে সেই কাগজের বদলে এখন সব তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত থাকে। এই ডিজিটাল রেকর্ডটিই হলো ই-টিকেট। যখন আপনি একটি ফ্লাইট বুক করেন এবং তার জন্য নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করেন, তখন এয়ারলাইন বা ট্রাভেল এজেন্সি আপনার নামে একটি ই-টিকেট ইস্যু করে।
ই-টিকেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এর ডাটাবেস। এই টিকেটের মূল রেকর্ডটি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের বা Validating Carrier-এর নিজস্ব ডাটাবেসে সংরক্ষিত থাকে। আপনি যখন এয়ারপোর্টে চেক-ইন করতে যান, তখন তারা আপনার নাম বা পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে এই ডাটাবেস থেকে আপনার ভ্রমণের তথ্য যাচাই করে নেয়।
যাত্রীকে ভ্রমণের প্রমাণ হিসেবে সাধারণত একটি Itinerary Receipt (ITR) দেওয়া হয়। এটি মূলত আপনার ফ্লাইটের রুট, সময়, সিট নম্বর এবং অন্যান্য তথ্যের একটি ডিজিটাল বা প্রিন্টেড রশিদ। মনে রাখবেন, ITR বা ই-টিকেট কেবল একটি তথ্যের তালিকা নয়, এটি একটি আর্থিক দলিল। এটি প্রমাণ করে যে আপনি নির্দিষ্ট ফ্লাইটে ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পরিশোধ করেছেন।
একটি ই-টিকেটের প্রধান পরিচয় হলো এর ১৩ সংখ্যার একটি নম্বর। এই নম্বরটি ছাড়া আপনার ভ্রমণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ট্রাভেল এজেন্টদের জন্য এই ই-টিকেটটি সঠিকভাবে ইস্যু করা এবং যাত্রীকে এর কপি প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, ডিজিটাল যুগে টিকেটের এই নম্বরটিই আপনার যাত্রার প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করে।
PNR এবং ই-টিকেট: সাধারণ মানুষের একটি বড় ভুল ধারণা
ভ্রমণপিপাসু যাত্রী এবং এমনকি অনেক নতুন ট্রাভেল এজেন্টের মধ্যেই একটি সাধারণ ভুল ধারণা প্রচলিত আছে—তারা মনে করেন PNR কোড পেলেই টিকিট নিশ্চিত হয়ে গেল। কিন্তু বাস্তবে PNR এবং ই-টিকেট এক নয় এবং এদের কাজ সম্পূর্ণ আলাদা। এই পার্থক্যটি না বুঝলে আপনি এয়ারপোর্টে বড় ধরনের বিপদে পড়তে পারেন।
PNR বা Passenger Name Record হলো একটি বুকিং রেকর্ড। এটি সাধারণত ৬ অক্ষরের একটি আলফানিউমেরিক কোড (যেমন: ABC12D)। PNR মূলত দিয়ে বোঝানো হয় যে, আপনি একটি নির্দিষ্ট ফ্লাইটে একটি নির্দিষ্ট সিট বুক করেছেন। এটি আপনার নাম, যাত্রার তারিখ, রুট এবং যোগাযোগের তথ্য ধারণ করে। সহজভাবে বললে, PNR হলো আপনার সিট বুকিংয়ের একটি ডিজিটাল স্লিপ।
অন্যদিকে, ই-টিকেট হলো একটি ১৩ সংখ্যার আর্থিক ও ভ্রমণ দলিল যা অর্থ পরিশোধের পর ইস্যু করা হয়। PNR এবং ই-টিকেটের মধ্যে মূল পার্থক্যটি নিচে দেওয়া হলো:
- উদ্দেশ্য: PNR হলো সিট বুকিং বা রিজার্ভেশনের রেকর্ড, আর ই-টিকেট হলো অর্থ পরিশোধিত ভ্রমণের প্রমাণ।
- গঠন: PNR সাধারণত ৬ অক্ষরের একটি কোড, কিন্তু ই-টিকেট নম্বরটি ১৩ সংখ্যার হয়।
- নিশ্চয়তা: PNR-এ আপনার সিট স্ট্যাটাস 'HK' বা কনফার্ম দেখালেও, যতক্ষণ না ১৩ সংখ্যার ই-টিকেট নম্বরটি জেনারেট হচ্ছে, ততক্ষণ আপনার যাত্রা পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।
একটি বাস্তব উদাহরণ দেওয়া যাক। ধরুন, আপনি একটি ফ্লাইটে সিট বুক করলেন এবং আপনার কাছে একটি ৬ অক্ষরের PNR কোড এলো। আপনার বুকিং স্ট্যাটাস 'Confirmed' দেখাচ্ছে। কিন্তু যদি কোনো কারণে আপনার পেমেন্ট প্রসেস সম্পন্ন না হয় বা এজেন্ট টিকিট ইস্যু না করে, তবে আপনার কাছে কোনো ১৩ সংখ্যার ই-টিকেট নম্বর থাকবে না। এমন অবস্থায় আপনি এয়ারপোর্টে গিয়ে বোর্ডিং পাস পাবেন না, কারণ সিস্টেম অনুযায়ী আপনার কোনো টিকিট ইস্যু করা হয়নি। তাই সবসময় নিশ্চিত করুন যে আপনার কাছে ১৩ সংখ্যার ই-টিকেট নম্বরটি আছে কি না।
১৩ সংখ্যার ই-টিকেট নম্বরের গঠন ও এয়ারলাইন কোড
একজন ট্রাভেল এজেন্ট বা সাধারণ যাত্রীর জন্য ই-টিকেট নম্বরটি সঠিকভাবে চেনা অত্যন্ত জরুরি। আন্তর্জাতিকভাবে IATA (International Air Transport Association) এর মান অনুযায়ী প্রতিটি ই-টিকেট নম্বর ঠিক ১৩ সংখ্যার হয়। এই ১৩টি সংখ্যা এলোমেলো নয়, বরং এর একটি নির্দিষ্ট গাণিতিক ও প্রশাসনিক গঠন রয়েছে যা দিয়ে বোঝা যায় টিকিটটি কোন এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ইস্যু করা হয়েছে।
১৩ সংখ্যার এই নম্বরের প্রথম ৩টি সংখ্যাকে বলা হয় 'এয়ারলাইন্স প্রিফিক্স' বা অ্যাকাউন্টিং কোড। এই কোডটি দেখেই বোঝা যায় টিকিটটি কোন এয়ারলাইন্সের ডাটাবেসে সংরক্ষিত। বাকি ১০টি সংখ্যা হলো ওই এয়ারলাইন্সের দেওয়া নির্দিষ্ট 'ডকুমেন্ট সিরিয়াল নম্বর'। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো টিকিটের নম্বর 997-2401234567 হয়, তবে প্রথম ৩টি সংখ্যা (997) দেখে বোঝা যাবে এটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিট।
বাংলাদেশে বহুল ব্যবহৃত কিছু এয়ারলাইন্সের প্রিফিক্স কোড নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে দেওয়া হলো, যা আপনাকে দ্রুত টিকিট যাচাই করতে সাহায্য করবে:
| এয়ারলাইন্স | প্রিফিক্স (প্রথম ৩ সংখ্যা) |
|---|---|
| বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স | 997 |
| ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স | 779 |
| কাতার এয়ারওয়েজ | 157 |
| এমিরেটস | 176 |
| সৌদিয়া | 065 |
টিকিট নম্বরটি যাচাই করার সময় সবসময় নিশ্চিত হয়ে নিন যে প্রিফিক্সটি সঠিক এয়ারলাইন্সের সাথে মিলছে কি না। অনেক সময় ভুল করে অন্য এয়ারলাইন্সের প্রিফিক্স দিয়ে টিকিট ইস্যু করার চেষ্টা করলে সিস্টেমে এরর দেখায়। তাই টিকিট ইস্যু করার সময় এই ১৩ সংখ্যার গঠনটি মাথায় রাখা একজন দক্ষ টিকেটিং প্রফেশনালের জন্য অপরিহার্য।
GDS-এ ই-টিকেট পড়ার ধাপ ও কুপন স্ট্যাটাস যাচাই
ট্রাভেল এজেন্সিগুলোতে কাজ করার সময় GDS (Global Distribution System) ব্যবহার করে ই-টিকেট রিড বা পড়া শিখতে হয়। শুধু PNR কোড দেখে বা ফ্লাইটের সিট কনফার্ম দেখে বসে থাকলে চলবে না; বরং ই-টিকেট রেকর্ডটি বিস্তারিতভাবে চেক করা বাধ্যতামূলক। কারণ, PNR-এ সিট কনফার্ম (HK) থাকলেও ই-টিকেট ডাটাবেসে টিকিট ইস্যু না হলে যাত্রী বিমানে চড়তে পারবেন না।
একজন প্রফেশনাল যেভাবে GDS-এ একটি ই-টিকেট চেক করবেন, তার ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- প্রথমে আপনার PNRটি ওপেন করুন এবং সেখানে টিকিট নম্বর ধারণকারী লাইনটি (যেমন: FA/FHE বা TKT ফিল্ড) খুঁজে বের করুন।
- এরপর ই-টিকেট রেকর্ডটি ডিসপ্লে করার জন্য নির্দিষ্ট কমান্ড দিন (যেমন: Amadeus-এ TWD, Sabre-এ *T বা WETR, অথবা Galileo-তে *HTE)।
- ডিসপ্লে হওয়ার পর প্রথমেই ১৩ সংখ্যার টিকেট নম্বরটি এবং যাত্রীর নামের বানান মিলিয়ে নিন।
- যাত্রীর পাসপোর্ট বা সিকিউরিটি তথ্যের সাথে ই-টিকেটের তথ্যের মিল আছে কি না তা যাচাই করুন।
- সবশেষে প্রতিটি ফ্লাইট সেগমেন্ট বা কুপনের ডান পাশের 'স্ট্যাটাস' চেক করুন।
ই-টিকেট পড়ার সময় 'কুপন স্ট্যাটাস' বোঝা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কুপন স্ট্যাটাস মূলত নির্দেশ করে যে ওই নির্দিষ্ট ফ্লাইটের টিকিটটি বর্তমানে কোন অবস্থায় আছে। কিছু সাধারণ স্ট্যাটাস হলো: OPEN (ব্যবহার করা হয়নি), USED (যাত্রী ভ্রমণ সম্পন্ন করেছেন), VOID (বাতিল করা হয়েছে), EXCH (নতুন টিকেটের বিনিময়ে পরিবর্তন করা হয়েছে) এবং RFND (রিফান্ড করা হয়েছে)।
মনে রাখবেন, যাত্রী যদি অনলাইনে চেক-ইন (CKIN) করে ফেলেন, তবে তার টিকিটটি সিস্টেমের কাছে 'Used' বা অন্য কোনো স্ট্যাটাসে চলে যেতে পারে। এমন অবস্থায় টিকিট রিইস্যু বা রিফান্ড করার চেষ্টা করলে সিস্টেমে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই যেকোনো পরিবর্তনের আগে কুপন স্ট্যাটাস চেক করা অত্যন্ত জরুরি।
রিইস্যু (Reissue) ও ভয়েড (Void) এর মধ্যে পার্থক্য ও সাধারণ ভুল
টিকিট সংক্রান্ত কাজের ক্ষেত্রে 'ভয়েড' এবং 'রিইস্যু'—এই দুটি শব্দ প্রায়ই ব্যবহার করা হয়, কিন্তু এদের কাজ এবং নিয়ম সম্পূর্ণ আলাদা। অনেক সময় নতুন ট্রাভেল এজেন্টরা এই দুটির মধ্যে গুলিয়ে ফেলেন, যা এজেন্সির আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
ভয়েড (Void): ভয়েড মানে হলো টিকিটটি ইস্যু করার পর তা বাতিল করে দেওয়া। সাধারণত টিকিট ইস্যু করার দিন বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (এয়ারলাইন্সের নিয়ম অনুযায়ী) টিকিট বাতিল করলে কোনো পেনাল্টি বা জরিমানা দিতে হয় না। Amadeus-এর মতো সিস্টেমে এর জন্য নির্দিষ্ট কমান্ড ব্যবহার করা হয়। যদি ভয়েডের সময়সীমা পার হয়ে যায়, তবে আর ভয়েড করা যায় না; তখন আপনাকে 'রিফান্ড' প্রক্রিয়ার সাহায্য নিতে হবে, যেখানে এয়ারলাইন্স ক্যান্সেলেশন পেনাল্টি কেটে নেবে।
রিইস্যু (Reissue): রিইস্যু হলো একটি ভিন্ন প্রক্রিয়া। যখন কোনো যাত্রী তার যাত্রার তারিখ, ফ্লাইট নম্বর, রুট বা বুকিং ক্লাস পরিবর্তন করতে চান, তখন পুরনো ই-টিকেটের বিনিময়ে নতুন একটি ই-টিকেট ইস্যু করতে হয়। আগে অনেক ক্ষেত্রে শুধু 'Revalidation' বা ইলেকট্রনিক আপডেট দিয়ে কাজ চলত, কিন্তু বর্তমানে বেশিরভাগ এয়ারলাইন্স যেকোনো পরিবর্তনের জন্য পূর্ণ রিইস্যু বাধ্যতামূলক করেছে। রিইস্যু করার ফলে যাত্রীকে একটি নতুন ১৩ সংখ্যার টিকেট নম্বর দেওয়া হয় এবং পুরনো টিকেটের স্ট্যাটাস 'EXCH' (Exchanged) হয়ে যায়।
বাংলাদেশে টিকেটিংয়ের ক্ষেত্রে একটি বড় ভুল দেখা যায়—যাত্রীরা যখন তারিখ বদলাতে চান, তখন এজেন্টরা অনেক সময় শুধু নতুন তারিখ বুক করে রাখেন কিন্তু টিকিটটি রিইস্যু করেন না। মনে রাখবেন, রিইস্যু না করলে যাত্রীর টিকেটটি পুরনো তারিখেই থেকে যায়, ফলে এয়ারপোর্টে গিয়ে তিনি বোর্ডিং পাস পাবেন না। এছাড়া, আংশিক ব্যবহৃত (Partially Used) টিকেট রিইস্যু করার সময় আজকের ভাড়ার বদলে মূল টিকেট ইস্যুর সময়ের ঐতিহাসিক ভাড়া (Historical Fare) ব্যবহার করতে হয়, যা না জানলে ভাড়ার হিসাবে বড় ভুল হতে পারে।
টিকেটিংয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত কিছু ভুল ও ভ্রান্ত ধারণা
এয়ার টিকেটিংয়ের জগতে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় ছোট ছোট ভুল বড় ধরনের আর্থিক বা আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নতুন ট্রাভেল এজেন্টদের মধ্যে কিছু ভুল ধারণা বা 'মিথ' প্রচলিত আছে, যা সঠিকভাবে না বুঝলে যাত্রীকে ভুল তথ্য দেওয়া হতে পারে। নিচে এমন কিছু সাধারণ ভুল ও ভ্রান্ত ধারণা তুলে ধরা হলো যা আপনার জানা অত্যন্ত জরুরি:
- ভ্রান্ত ধারণা: PNR কনফার্ম হলেই টিকিট নিশ্চিত। এটি টিকেটিংয়ের সবচেয়ে বড় এবং সাধারণ ভুল। PNR কেবল একটি বুকিং রেকর্ড বা রিজার্ভেশন কোড। যতক্ষণ না ১৩ সংখ্যার ই-টিকেট নম্বরটি জেনারেট হচ্ছে, ততক্ষণ যাত্রীর সিট বা ভ্রমণ পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। অনেক সময় PNR কনফার্ম থাকলেও পেমেন্ট বা টিকিট ইস্যু না হওয়ার কারণে যাত্রা বাতিল হতে পারে।
- ভুল: রিইস্যু না করে শুধু নতুন ফ্লাইট বুক করা। অনেক এজেন্ট যাত্রীর তারিখ পরিবর্তনের অনুরোধ পেলে শুধু নতুন ফ্লাইটে সিট বুক করে দেন এবং মনে করেন কাজ শেষ। কিন্তু যদি পুরনো টিকেটের বিপরীতে রিইস্যু প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করা হয়, তবে যাত্রীর টিকেটটি পুরনো তারিখেই থেকে যাবে এবং তিনি এয়ারপোর্টে গিয়ে বোর্ডিং পাস পাবেন না।
- ভুল: আংশিক ব্যবহৃত টিকেটের ক্ষেত্রে বর্তমান ভাড়া ধরা। যদি কোনো যাত্রী যাওয়ার ফ্লাইট সম্পন্ন করার পর ফিরতি ফ্লাইটের তারিখ বদলাতে চান, তবে আজকের ভাড়ার বদলে মূল টিকেট ইস্যুর সময়ের ঐতিহাসিক ভাড়া (Historical Fare) হিসাব করতে হবে। এটি না জানলে ভাড়ার হিসাবে বড় ধরনের ভুল হতে পারে।
- ভ্রান্ত ধারণা: রিইস্যু মানেই শুধু তারিখ বদলানো। রিইস্যু কেবল তারিখ নয়, বরং রুট পরিবর্তন বা বুকিং ক্লাস (RBD) পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যেকোনো পরিবর্তনের জন্যই নতুন ই-টিকেট ইস্যু করা প্রয়োজন।
এয়ার টিকেটিংয়ে পেশাদার ক্যারিয়ার গড়ার উপায়
বর্তমান সময়ে ট্রাভেল ও এভিয়েশন সেক্টরে দক্ষ টিকেটিং প্রফেশনালের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে কেবল সাধারণ ধারণা থাকলেই এই পেশায় সফল হওয়া সম্ভব নয়; আপনাকে GDS (Global Distribution System) যেমন Amadeus, Sabre বা Galileo-র কমান্ড এবং টিকেটিংয়ের জটিল নিয়মগুলো হাতে-কলমে শিখতে হবে।
আপনি যদি এই সেক্টরে নিজেকে একজন দক্ষ ট্রাভেল এজেন্ট হিসেবে গড়ে তুলতে চান, তবে প্র্যাকটিক্যাল জ্ঞান থাকা অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে বিস্তারিত এবং প্র্যাকটিক্যাল দক্ষতা অর্জনের জন্য আপনি AI University of Bangladesh-এর "ট্রাভেল এজেন্সি এয়ার টিকেটিং মাস্টার কোর্স" দেখতে পারেন। এই কোর্সে ৬০টি লেসনের মাধ্যমে GDS কমান্ড, PNR তৈরি, ভাড়ার নিয়ম, টিকিট ইস্যু, রিইস্যু, রিফান্ড এবং অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি (OTA) পরিচালনার বিষয়গুলো ধাপে ধাপে শেখানো হয়।
কোর্সের বিশেষত্ব হলো এর “টিকেটিং ল্যাব” সিমুলেটর, যেখানে আপনি Amadeus-ধাঁচের কমান্ডগুলো বাস্তবে অনুশীলন করতে পারবেন। মনে রাখবেন, এই কোর্সটি কোনো GDS বা IATA-র অফিসিয়াল সনদ নয়, বরং এটি একটি স্কিল-বেসড লার্নিং প্ল্যাটফর্ম যা আপনাকে ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যান্ডার্ড শিখতে সাহায্য করবে। কোর্সটির বর্তমান লঞ্চ অফার মূল্য মাত্র ৯৯৯ টাকা (রেগুলার মূল্য ১০,০০০ টাকা)।
ট্রাভেল এজেন্সি এয়ার টিকেটিং মাস্টার কোর্স
এয়ারপোর্ট-এয়ারলাইন কোড থেকে GDS কমান্ড, PNR, ভাড়ার নিয়ম, টিকিট ইস্যু, রিইস্যু-রিফান্ড, ভিসা-ডকুমেন্ট আর অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি (OTA) — বাংলায়, ধাপে ধাপে। প্রতিটি কমান্ড ব্রাউজারের “টিকেটিং ল্যাব” সিমুলেটরে অনুশীলন করুন (Amadeus-ধাঁচের কমান্ড; আসল GDS নয়, ফ্লাইট ও ভাড়া কাল্পনিক)। সার্টিফিকেট IATA বা কোনো GDS কোম্পানির অফিসিয়াল সনদ নয়।
শেষ কথা
ই-টিকেট এবং PNR-এর পার্থক্য বোঝা একজন ট্রাভেল এজেন্টের জন্য প্রাথমিক ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। PNR হলো বুকিংয়ের একটি রেকর্ড, আর ই-টিকেট হলো ভ্রমণের চূড়ান্ত ও আর্থিক দলিল। এই বিষয়গুলো সঠিকভাবে আয়ত্ত করতে পারলে আপনি এয়ারপোর্টে বা এজেন্সিতে যাত্রীদের সঠিক সেবা দিতে পারবেন এবং বড় ধরনের ভুল এড়িয়ে চলতে পারবেন।
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
PNR আর ই-টিকেট কি এক?
না, PNR হলো একটি ৬ অক্ষরের বুকিং কোড যা সিট রিজার্ভেশন নিশ্চিত করে। অন্যদিকে, ই-টিকেট হলো ১৩ সংখ্যার একটি ডিজিটাল দলিল যা অর্থ পরিশোধের পর ইস্যু করা হয়।
আমার কাছে PNR আছে, আমি কি বিমানে চড়তে পারব?
শুধু PNR থাকলেই হবে না, আপনার কাছে অবশ্যই ১৩ সংখ্যার একটি ই-টিকেট নম্বর থাকতে হবে। ই-টিকেট নম্বর ছাড়া এয়ারলাইন আপনাকে বোর্ডিং পাস দেবে না।
ই-টিকেট নম্বর কোথায় পাব?
ই-টিকেট নম্বরটি আপনার পাঠানো Itinerary Receipt (ITR) বা এজেন্সির দেওয়া টিকেটের কপিতে দেখা যাবে। এটি সাধারণত ১৩ সংখ্যার হয়।
টিকিট রিইস্যু করলে কি নতুন নম্বর পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, যখন আপনি তারিখ বা রুট পরিবর্তনের জন্য রিইস্যু করেন, তখন একটি নতুন ১৩ সংখ্যার টিকেট নম্বর ইস্যু করা হয় এবং পুরনো টিকেটের স্ট্যাটাস 'EXCH' হয়ে যায়।
ভয়েড (Void) আর রিফান্ড (Refund) এর মধ্যে পার্থক্য কী?
ভয়েড হলো টিকিট ইস্যুর দিনই সেটি বাতিল করা, যাতে কোনো জরিমানা লাগে না। আর রিফান্ড হলো ভয়েডের সময়সীমা পার হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা কেটে রেখে টাকা ফেরত দেওয়া।
