AI University of Bangladesh ফ্রি অ্যাকাউন্ট খুলুন

এয়ার টিকেটিং ও ট্রাভেল

GDS কোর্স: এয়ার টিকেটিং ও ট্রাভেল এজেন্সিতে ক্যারিয়ার গড়ার পূর্ণাঙ্গ ধারণা

GDS কোর্স কী এবং এটি শিখে কীভাবে ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ শুরু করা যায়, তার একটি বিস্তারিত আলোচনা।

AI University টিম ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১০ মিনিটে পড়া
AI University টিম
কোর্সের পাঠ ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে লেখা
সূচিপত্র

আপনি কি ট্রাভেল ও এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিতে একটি সম্মানজনক ক্যারিয়ার গড়তে চান? তাহলে GDS কোর্স সম্পর্কে আপনার পরিষ্কার এবং গভীর ধারণা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। GDS বা Global Distribution System হলো এমন একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত মাধ্যম, যা বিশ্বজুড়ে এয়ারলাইনস এবং ট্রাভেল এজেন্সিকে রিয়েল-টাইম সিট বুকিং, ভাড়ার তথ্য এবং টিকেটিং সেবা আদান-প্রদান করতে সাহায্য করে।

একজন দক্ষ এয়ার টিকেটিং প্রফেশনাল হতে হলে আপনাকে শুধু টিকিট কাটতে জানলেই হবে না, বরং GDS-এর জটিল কমান্ড এবং সিস্টেমের কাজের পদ্ধতি বুঝতে হবে। এই নিবন্ধে আমরা GDS কী, এর প্রধান কোম্পানিগুলো, টিকেটের পেছনের চেইন এবং বাংলাদেশে এই সেক্টরে কাজের সুযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এটি এমন একটি গাইড যা আপনাকে এই পেশার প্রতিটি ধাপ বুঝতে সাহায্য করবে।

GDS কী এবং এয়ার টিকেটের পেছনের চেইন কীভাবে কাজ করে?

একটি বিমানের টিকেট যাত্রীর হাতে পৌঁছানোর আগে বেশ কিছু প্রযুক্তিগত ধাপ পার হয় ১। এই পুরো প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে থাকে GDS বা Global Distribution System। সহজভাবে বললে, এটি একটি বিশাল ডিজিটাল নেটওয়ার্ক যা এয়ারলাইনস এবং ট্রাভেল এজেন্সিকে সরাসরি সংযুক্ত করে।

এয়ারলাইনস তাদের সিট এবং ভাড়ার সর্বশেষ তথ্য এই সিস্টেমে আপডেট করে রাখে। এরপর ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলের মাধ্যমে সেই তথ্য এজেন্সির কাছে পৌঁছায় ১। এই ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলগুলো মূলত তিন ধরনের:

সারা বিশ্বে মূলত তিনটি বড় GDS কোম্পানি কাজ করে যা বাংলাদেশেও অত্যন্ত সক্রিয় ১। প্রথমটি হলো Amadeus, যার বাংলাদেশে প্রতিনিধি হলো GTD Bangla। দ্বিতীয়টি হলো Sabre, যা বাংলাদেশে একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সেবা প্রদান করে ১২। তৃতীয়টি হলো Travelport, যার অধীনে Galileo, Apollo ও Worldspan সিস্টেমগুলো রয়েছে ১।

একজন ট্রাভেল এজেন্ট যখন GDS ব্যবহার করেন, তখন তিনি এক স্ক্রিনেই অনেকগুলো এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটের তুলনা করতে পারেন। যেমন, ঢাকার একজন এজেন্ট চাইলে এক নিমেষেই এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ বা বিমানের ফ্লাইটের সিট ও ভাড়া দেখে নিতে পারেন। এই সিস্টেমগুলো ব্যবহার করেই মূলত PNR বা Passenger Name Record তৈরি করা হয়, যা একটি বুকিংয়ের প্রাণ।

বাংলাদেশে GDS শেখার গুরুত্ব ও ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা

বাংলাদেশে ট্রাভেল ও এভিয়েশন সেক্টর দিন দিন বড় হচ্ছে, ফলে দক্ষ GDS অপারেটরদের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আপনি যদি একটি সঠিক GDS কোর্স সম্পন্ন করেন, তবে আপনি ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পজিশনে কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন।

সাধারণত ট্রাভেল এজেন্সিতে যেসব পদে কাজ করা যায়:

তবে এই পেশায় প্রবেশের আগে একটি বাস্তব সত্য জানা জরুরি। সাধারণত আসল GDS অ্যাক্সেস শুধুমাত্র নিবন্ধিত ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর কাছে থাকে, কোনো একক ব্যক্তির কাছে নয়। ফলে নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি আসল সিস্টেমে প্র্যাকটিস করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। এই ঘাটতি পূরণের জন্য বর্তমানে 'টিকেটিং ল্যাব' বা সিমুলেটর ব্যবহার করা হয়, যা আপনাকে কমান্ড এবং সিস্টেমের লজিক শিখতে সাহায্য করে।

একজন সফল টিকেটিং প্রফেশনাল হতে হলে শুধু কমান্ড মুখস্থ করলে হবে না, বরং আপনাকে ফেয়ার রুলস (Fare Rules), ট্যাক্স, ব্যাগেজ পলিসি এবং এয়ারলাইন পলিসি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আপনি যদি এই বিষয়গুলো আয়ত্ত করতে পারেন, তবে যেকোনো এজেন্সিতে আপনার গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেড়ে যাবে।

PNR-এর গুরুত্ব ও তৈরির ধাপসমূহ

GDS সিস্টেমে কাজ করার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো PNR বা Passenger Name Record। সহজ কথায়, PNR হলো একটি বুকিংয়ের ডিজিটাল পরিচয় বা ফাইল। একটি যাত্রী যখন কোনো ফ্লাইট বুক করেন, তখন তার সমস্ত তথ্য একটি নির্দিষ্ট কোড বা রেকর্ডের মাধ্যমে সিস্টেমে জমা থাকে। এই PNR ছাড়া কোনো যাত্রী বিমানে উঠতে পারেন না এবং এয়ারলাইনস তার যাত্রীকে শনাক্ত করতে পারে না।

একটি পূর্ণাঙ্গ এবং সঠিক PNR তৈরি করতে কিছু বাধ্যতামূলক তথ্য বা এলিমেন্ট প্রয়োজন হয়। যদি এই তথ্যের কোনো একটি ভুল হয় বা বাদ পড়ে যায়, তবে পুরো বুকিংটি বাতিল হয়ে যেতে পারে বা যাত্রীকে বিমানে উঠতে সমস্যা হতে পারে। একটি আদর্শ PNR তৈরির ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  1. অ্যাভেইলেবিলিটি ও সেল: প্রথমে নির্দিষ্ট তারিখে এবং রুটে কোন কোন ফ্লাইটে সিট খালি আছে তা দেখে পছন্দের ফ্লাইটের সিটটি বুক বা 'সেল' করতে হয়।
  2. নামের এন্ট্রি: যাত্রীর নাম অবশ্যই পাসপোর্টের সাথে হুবহু মিল রেখে লিখতে হবে। এখানে প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ছাড়াও CHD (Child) বা INF (Infant) যাত্রীদের জন্য বিশেষ নিয়ম ও ফরম্যাট অনুসরণ করতে হয়।
  3. যোগাযোগের তথ্য: যাত্রীর ফোন নম্বর এবং ইমেইল অ্যাড্রেস যোগ করা অত্যন্ত জরুরি যাতে কোনো পরিবর্তন হলে জানানো যায়।
  4. টিকিটিং টাইম লিমিট: বুকিং করার পর কত সময়ের মধ্যে টিকিট ইস্যু করতে হবে, সেই সময়সীমা নির্ধারণ করা।
  5. রিসিভড ফ্রম (Received From): বুকিংটি কে করছেন বা কার অনুরোধে করা হচ্ছে, সেই নাম বা তথ্য লিখে রাখা।
  6. সেভ (Save): সব তথ্য সঠিকভাবে ইনপুট দেওয়ার পর PNR-টি সিস্টেমে স্থায়ীভাবে সেভ করতে হয়।

এছাড়াও যাত্রীর বিশেষ চাহিদা যেমন—খাবার (Meal), হুইলচেয়ার বা বিশেষ কোনো চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যের জন্য SSR (Special Service Request) এবং অতিরিক্ত তথ্য প্রদানের জন্য OSI (Other Service Information) কমান্ড ব্যবহার করে PNR-এ নোট যোগ করতে হয়।

ভাড়া (Fare) ও ফেয়ার রুলস বোঝার কৌশল

একজন টিকেটিং এক্সিকিউটিভের কাছে টিকেটের দাম বা ভাড়া কেবল একটি সংখ্যা নয়; এর পেছনে রয়েছে অত্যন্ত জটিল কিছু গাণিতিক ও আইনি নিয়ম। GDS-এ ভাড়া বের করার সময় আপনাকে Fare Basis, RBD (Reservation Booking Designator), এবং বিভিন্ন ট্যাক্স ও সারচার্জ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে। ভাড়ার এই কাঠামোটি সঠিকভাবে না বুঝলে ভুল কোটেশন বা ভুল টিকিটিংয়ের ঝুঁকি থাকে।

ভাড়া মূলত নির্ভর করে যাত্রীর ধরন, কেবিন (যেমন: Economy, Business বা First Class) এবং বুকিং ক্লাসের ওপর। একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো 'ফেয়ার রুলস' বা ভাড়ার শর্তাবলি। এই শর্তগুলো না জানলে এজেন্সিকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। নিচে একটি তুলনামূলক টেবিলের মাধ্যমে রিফান্ডেবল ও নন-রিফান্ডেবল ভাড়ার পার্থক্য দেখানো হলো:

বৈশিষ্ট্য রিফান্ডেবল (Refundable) নন-রিফান্ডেবল (Non-refundable)
ভাড়ার পরিমাণ সাধারণত বেশি হয় সাধারণত কম বা সাশ্রয়ী
বাতিল করার নিয়ম নির্দিষ্ট চার্জ কেটে টাকা ফেরত পাওয়া যায় সাধারণত কোনো টাকা ফেরত পাওয়া যায় না
তারিখ পরিবর্তন সহজেই করা যায় (পেনাল্টি প্রযোজ্য হতে পারে) খুবই কঠিন বা অতিরিক্ত চার্জ লাগে

ফেয়ার রুলস-এর মধ্যে কিছু সাধারণ টার্ম রয়েছে যা আপনাকে অবশ্যই আয়ত্ত করতে হবে। যেমন—Advance Purchase (কতদিন আগে টিকিট কাটতে হবে), Minimum Stay (যাত্রীকে কতদিন ওই দেশে অবস্থান করতে হবে), এবং No-show (যাত্রী যদি নির্ধারিত ফ্লাইটে উপস্থিত না হন) সংক্রান্ত নিয়মগুলো। এছাড়া ট্যাক্স, ফি এবং ব্যাগেজ পলিসি (পিস বনাম ওজন ভিত্তিক) সম্পর্কেও গভীর জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।

টিকেটিং লাইফসাইকেল: ইস্যু থেকে রিফান্ড ও রিইস্যু

টিকিট ইস্যু করা মানেই একজন এজেন্টের কাজ শেষ হয়ে যাওয়া নয়। একটি টিকেটের জীবনচক্র বা লাইফসাইকেল শুরু হয় বুকিং থেকে এবং শেষ হয় যাত্রার পর পর্যন্ত। টিকেটিংয়ের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অংশ হলো টিকেটের অবস্থা পরিবর্তন করা, যা মূলত রিইস্যু (Reissue) এবং রিফান্ড (Refund) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করা হয়।

যদি কোনো যাত্রী তার ভ্রমণের তারিখ বা রুট পরিবর্তন করতে চান, তবে তাকে 'রিইস্যু' করতে হয়। এক্ষেত্রে পুরনো টিকেটের ভাড়ার সাথে নতুন ভাড়ার পার্থক্য (Fare Difference) এবং এয়ারলাইন্সের নির্ধারিত পেনাল্টি বা চেঞ্জ ফি যোগ করে নতুন ই-টিকেট ইস্যু করতে হয়। আবার যদি যাত্রী সম্পূর্ণ ভ্রমণ বাতিল করতে চান, তবে তাকে 'রিফান্ড' প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।

এখানে 'ভয়েড' (Void) এবং 'রিফান্ড' (Refund)-এর মধ্যে পার্থক্য বোঝা অত্যন্ত জরুরি। ইস্যুর দিন (সাধারণত স্থানীয় সময় রাত ১১:৫৯-এর আগে) টিকিটটি বাতিল করলে তাকে 'ভয়েড' বলা হয়, যেখানে সাধারণত কোনো এয়ারলাইন পেনাল্টি লাগে না। কিন্তু ভয়েড করার সময় পার হয়ে গেলে তা রিফান্ড হিসেবে গণ্য হয় এবং তখন এয়ারলাইন্সের ক্যান্সেলেশন চার্জ বা পেনাল্টি কেটে নেওয়া হয়।

অতিরিক্ত ব্যাগেজ, সিট বুকিং বা অন্যান্য পেনাল্টির জন্য অনেক সময় EMD (Electronic Miscellaneous Document) ব্যবহার করা হয়। একজন দক্ষ টিকেটিং প্রফেশনাল হিসেবে আপনাকে সবসময় ই-টিকেট ডাটাবেসে গিয়ে কুপন স্ট্যাটাস (যেমন: OPEN, USED, VOID, EXCH বা RFND) যাচাই করতে হবে। শুধুমাত্র PNR-এর সেগমেন্ট স্ট্যাটাস দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে; তাই ই-টিকেট ডাটাবেস চেক করা বাধ্যতামূলক।

GDS ও টিকেটিং নিয়ে প্রচলিত ভুল ও কিছু মিথ

ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রিতে ক্যারিয়ার শুরু করতে চাওয়া অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যেই কিছু ভুল ধারণা বা মিথ প্রচলিত রয়েছে। এই ভুলগুলো না বুঝলে আপনি ভুল পথে পরিচালিত হতে পারেন বা ইন্টারভিউতে ব্যর্থ হতে পারেন। প্রথমত, একটি বড় মিথ হলো—"একটি GDS (যেমন Amadeus) শিখলেই সারা জীবন চলবে।" যদিও সব GDS-এর কাজের মূল লজিক বা কনসেপ্ট প্রায় একই, কিন্তু তাদের কমান্ড স্টাইল বা টাইপ করার পদ্ধতি আলাদা। নিয়োগকর্তারা অনেক সময় Sabre বা Galileo ব্যবহার করতে বলতে পারেন, তাই কনসেপ্টের পাশাপাশি কমান্ডের ভিন্নতা সম্পর্কেও ধারণা রাখা জরুরি।

দ্বিতীয়ত, অনেকেই সিভিতে "Expert in Amadeus, Sabre, Galileo" লিখে ফেলেন, যদিও তারা কেবল বেসিক কিছু কমান্ড জানেন। এটি একটি বড় ভুল। ইন্টারভিউয়াররা যখন আপনাকে সরাসরি সিস্টেমে টেস্ট করবেন, তখন এই অতিরঞ্জিত দাবি আপনার জন্য বিপদজনক হতে পারে। তাই সিভিতে কেবল আপনি যা পারেন, তা-ই স্পষ্টভাবে লিখুন। এছাড়া, অনলাইনে অনেকে "GDS লগইন" বা "চাকরির গ্যারান্টি" দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে; এ ধরনের প্রতারণা থেকে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে।

প্র্যাকটিক্যাল কাজের ক্ষেত্রেও কিছু মারাত্মক ভুল হতে পারে। যেমন, অনেক এজেন্ট শুধু PNR-এর সেগমেন্ট স্ট্যাটাস (HK বা Confirmed) দেখে যাত্রীকে নিশ্চিত বলে ফেলেন। কিন্তু এটি যথেষ্ট নয়; যাত্রীর ই-টিকেট ডাটাবেসে গিয়ে কুপন স্ট্যাটাস (OPEN) আছে কি না, তা যাচাই করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া, ফেয়ার রুলস বা ভাড়ার শর্তাবলি (যেমন: রিফান্ড বা পেনাল্টি সংক্রান্ত নিয়ম) না পড়ে টিকিট ইস্যু করলে এজেন্সিকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।

সফল টিকেটিং প্রফেশনাল হওয়ার কৌশল ও ক্যারিয়ার গড়ার টিপস

এয়ার টিকেটিং ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেকে একজন দক্ষ এবং নির্ভরযোগ্য প্রফেশনাল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে আপনাকে কেবল কমান্ড মুখস্থ করলে চলবে না, বরং আপনাকে একজন 'ট্রাভেল কনসালট্যান্ট' হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। এর জন্য কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন। প্রথমত, আপনাকে এয়ারপোর্ট, সিটি এবং এয়ারলাইন কোড (IATA Codes) ও বিশ্বভূগোল সম্পর্কে অত্যন্ত স্বচ্ছ ধারণা রাখতে হবে। টাইম জোন এবং বিভিন্ন ফ্লাইটের সময় ফরম্যাট বুঝতে পারা একজন দক্ষ এজেন্টের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

দ্বিতীয়ত, হাতে-কলমে প্র্যাকটিস বা সিমুলেটর ব্যবহার করা। যেহেতু আসল GDS অ্যাক্সেস সাধারণত এজেন্সিগুলোর কাছে থাকে, তাই একজন শিক্ষার্থী হিসেবে সিমুলেটরে বারবার PNR তৈরি করা, ভাড়ার পার্থক্য বের করা এবং রিইস্যু করার প্র্যাকটিস করা উচিত। যত বেশি আপনি ভুল করবেন এবং তা সংশোধনের চেষ্টা করবেন, আপনার আত্মবিশ্বাস তত বাড়বে।

তৃতীয়ত, আপনার সিভি (CV) তৈরির ক্ষেত্রে কৌশল অবলম্বন করুন। সিভিতে কেবল "GDS জানা" না লিখে, আপনি সিমুলেটরে কী কী কাজ করেছেন তার একটি বিস্তারিত বিবরণ দিন। যেমন: "সিমুলেটরে মাল্টি-প্যাসেঞ্জার PNR তৈরি, SSR এন্ট্রি এবং ম্যানুয়াল রিফান্ড ক্যালকুলেশন সম্পন্ন করেছি"। এটি রিক্রুটারদের কাছে আপনার প্র্যাকটিক্যাল জ্ঞান সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা দেবে।

সবশেষে, ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রি প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। নতুন নতুন এয়ারলাইন পলিসি, ভিসা নিয়ম এবং প্রযুক্তি (যেমন: NDC) প্রতিনিয়ত আসছে। তাই নিজেকে আপ-টু-ডেট রাখতে IATA, ATAB বা সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনগুলোর অফিসিয়াল আপডেট নিয়মিত অনুসরণ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। মনে রাখবেন, আপনার শেখার আগ্রহ এবং আপডেট থাকার মানসিকতাই আপনাকে এই সেক্টরে দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য এনে দেবে।

ট্রাভেল এজেন্সি এয়ার টিকেটিং মাস্টার কোর্স

এয়ারপোর্ট-এয়ারলাইন কোড থেকে GDS কমান্ড, PNR, ভাড়ার নিয়ম, টিকিট ইস্যু, রিইস্যু-রিফান্ড, ভিসা-ডকুমেন্ট আর অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি (OTA) — বাংলায়, ধাপে ধাপে। প্রতিটি কমান্ড ব্রাউজারের “টিকেটিং ল্যাব” সিমুলেটরে অনুশীলন করুন (Amadeus-ধাঁচের কমান্ড; আসল GDS নয়, ফ্লাইট ও ভাড়া কাল্পনিক)। সার্টিফিকেট IATA বা কোনো GDS কোম্পানির অফিসিয়াল সনদ নয়।

কোর্সটি দেখুন

শেষ কথা

GDS বা এয়ার টিকেটিং শেখা মানে কেবল একটি সফটওয়্যার চালানো শেখা নয়, বরং এটি একটি বিশাল বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের অংশ হওয়া। সঠিক পদ্ধতিতে PNR তৈরি, ভাড়া নির্ধারণ এবং টিকেটের জীবনচক্র বুঝতে পারলে আপনি এই ইন্ডাস্ট্রিতে একটি মজবুত ভিত্তি তৈরি করতে পারবেন। নিয়মিত প্র্যাকটিস এবং সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আপনার দক্ষতা বৃদ্ধি করুন এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে ক্যারিয়ারের পথে এগিয়ে যান।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

GDS কোর্স করলে কি সরাসরি চাকরি পাওয়া যায়?

কোনো কোর্সই চাকরির গ্যারান্টি দেয় না। তবে GDS জানা থাকলে এবং আপনি যদি PNR তৈরি বা রিফান্ড করার মতো কাজগুলো প্র্যাকটিক্যালি পারেন, তবে চাকরি পাওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়।

Amadeus, Sabre নাকি Galileo—কোনটি শেখা সবচেয়ে ভালো?

এই তিনটি সিস্টেমের কমান্ড আলাদা হলেও এদের কাজের মূল পদ্ধতি বা লজিক প্রায় একই। আপনি যেকোনো একটি ভালোভাবে শিখলে অন্যগুলোতে মানিয়ে নেওয়া সহজ হবে।

আমি কি একা একা GDS শিখতে পারি?

আপনি চাইলে অনলাইন কোর্স বা সিমুলেটর ব্যবহার করে বেসিক কমান্ড ও লজিক শিখতে পারেন। তবে পেশাদারভাবে কাজ করতে হলে একটি ট্রাভেল এজেন্সির অধীনে হাতে-কলমে প্র্যাকটিস করা সবচেয়ে কার্যকর।

GDS শিখতে কতদিন সময় লাগে?

এটি নির্ভর করে আপনার শেখার গতির ওপর। তবে বেসিক কমান্ড, PNR তৈরি এবং সাধারণ রিফান্ড/রিইস্যু নিয়মগুলো আয়ত্ত করতে কয়েক মাস নিয়মিত প্র্যাকটিস প্রয়োজন।

টিকিট ইস্যু করার পর কি কোনো ভুল হলে তা ঠিক করা যায়?

ইস্যুর দিন বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টিকিটটি 'ভয়েড' (Void) করা যায়, যাতে কোনো পেনাল্টি না লাগে। সময় পার হয়ে গেলে আপনাকে রিফান্ড বা রিইস্যু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ করতে হবে।

তথ্যসূত্র

  1. IATA
  2. IATA - New Distribution Capability (NDC)
  3. Bangladesh Monitor - Sabre Bangladesh dubbed Best Technical, Product Support Partner
শেয়ার করুন:FacebookWhatsAppLinkedIn

এয়ার টিকেটিং ও ট্রাভেল — এই বিষয়ের সব লেখা

এয়ার টিকেটিং ও ট্রাভেল বিভাগের সব লেখা →

আরও পড়ুন

এয়ার টিকেটিং ও ট্রাভেল

এয়ার টিকেট রিইস্যু কি এবং এর প্রক্রিয়া ও খরচ কীভাবে হিসাব করা হয়?

এয়ার টিকেট রিইস্যু বা এক্সচেঞ্জ হলো যাত্রার তারিখ বা রুট পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া। এই নিবন্ধে রিইস্যু করার নিয়ম ও খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

৯ মিনিট৩১ অক্টোবর, ২০২৬
এয়ার টিকেটিং ও ট্রাভেল

IATA কোর্স কি এবং এয়ার টিকেটিং শিখতে যা জানা প্রয়োজন

IATA কোর্স এবং এয়ার টিকেটিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রিতে কীভাবে কাজ করা হয় তা জানুন। এই নিবন্ধে কোর্সের বিষয়বস্তু ও গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

৮ মিনিট৩০ অক্টোবর, ২০২৬
এয়ার টিকেটিং ও ট্রাভেল

ট্রাভেল এজেন্সির কাজ কি? টিকেটিং, ভিসা ও ট্যুর প্যাকেজ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

ট্রাভেল এজেন্সি কীভাবে কাজ করে এবং এর মাধ্যমে কী কী সেবা পাওয়া যায় তা নিয়ে একটি বিস্তারিত আলোচনা।

১০ মিনিট২৮ অক্টোবর, ২০২৬