AI University of Bangladesh ফ্রি অ্যাকাউন্ট খুলুন

এয়ার টিকেটিং ও ট্রাভেল

Galileo GDS কী এবং ট্রাভেল এজেন্সিতে এর কাজ ও ব্যবহার

ট্রাভেল এজেন্সিতে কাজ করতে চাইলে Galileo GDS সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরি। এই নিবন্ধে আমরা Galileo GDS-এর কাজ, কমান্ড এবং বাংলাদেশে এর ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

AI University টিম ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১০ মিনিটে পড়া
AI University টিম
কোর্সের পাঠ ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে লেখা
সূচিপত্র

আপনি যদি ট্রাভেল বা এয়ার টিকেটিং ইন্ডাস্ট্রিতে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তবে Galileo GDS কী তা জানা আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। সহজ কথায়, Galileo হলো একটি Global Distribution System (GDS), যা একটি বিশাল ডিজিটাল নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করে। এই সিস্টেমের মাধ্যমে ট্রাভেল এজেন্টরা বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সিট, ভাড়ার তথ্য এবং অন্যান্য সেবা সরাসরি দেখতে ও বুক করতে পারেন ১০।

আধুনিক ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রিতে Galileo বা এই ধরণের GDS ছাড়া কাজ করা প্রায় অসম্ভব। এটি মূলত একটি মাধ্যম বা ব্রিজ হিসেবে কাজ করে, যা হাজার হাজার ট্রাভেল এজেন্সিকে সরাসরি এয়ারলাইন্সের রিজার্ভেশন সিস্টেমের সাথে যুক্ত করে দেয় ১০। আগেকার দিনে এজেন্টদের সিটের খোঁজ নিতে এয়ারলাইন্সের অফিসে ফোন করতে হতো, কিন্তু এখন Galileo-র মাধ্যমে এক স্ক্রিনেই সব তথ্য পাওয়া সম্ভব ১০।

Galileo GDS কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?

Galileo হলো বিশ্বের অন্যতম প্রধান একটি Global Distribution System (GDS)। এটি মূলত Travelport নামক একটি বড় কোম্পানির অধীনে পরিচালিত হয়। Travelport-এর অধীনে Galileo ছাড়াও Apollo এবং Worldspan নামক আরও দুটি সিস্টেম রয়েছে ১০। বাংলাদেশে Galileo-র কার্যক্রম পরিচালনা করে Galileo Bangladesh (Global Travel Distribution Pte Ltd) ১০।

Galileo কীভাবে কাজ করে তা বুঝতে হলে আপনাকে একটি ডিজিটাল মার্কেটপ্লেসের কথা ভাবতে হবে। এই মার্কেটপ্লেসে এয়ারলাইন্সগুলো তাদের সিট বা ইনভেন্টরি প্রদর্শন করে এবং ট্রাভেল এজেন্টরা ক্রেতা হিসেবে সেই সিটগুলো বুক করেন ১০। যখন একজন এজেন্ট Galileo সিস্টেমে কোনো ফ্লাইটের খোঁজ করেন, তখন সিস্টেমটি রিয়েল-টাইমে এয়ারলাইন্সের সার্ভারের সাথে যোগাযোগ করে এবং সিটের প্রাপ্যতা ও বর্তমান ভাড়া প্রদর্শন করে ১০।

ভাড়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ATPCO (Airline Tariff Publishing Company)। সারা বিশ্বের এয়ারলাইনগুলোর ভাড়া এবং তাদের নিয়মকানুন একটি কেন্দ্রীয় জায়গা থেকে আসে, যা হলো ATPCO ১০। ATPCO এই সমস্ত ভাড়ার তথ্য Galileo-র মতো GDS কোম্পানিগুলোর কাছে পাঠিয়ে দেয়। ফলে যখনই আপনি Galileo-তে কোনো ফ্লাইটের দাম দেখেন, আপনি আসলে সেই তথ্যটি ATPCO থেকেই পাচ্ছেন ১০।

Galileo ব্যবহারের দুটি প্রধান পদ্ধতি রয়েছে। প্রথমটি হলো ক্রিপ্টিক কমান্ড (Cryptic Command), যেখানে ছোট ছোট বিশেষ কোড টাইপ করে কাজ করা হয়। এটি দেখতে কিছুটা পুরনো আমলের DOS সিস্টেমের মতো মনে হলেও, অভিজ্ঞ এজেন্টদের কাছে এটি অত্যন্ত দ্রুতগতির পদ্ধতি ১০। দ্বিতীয়টি হলো গ্রাফিক্যাল বা ওয়েব স্ক্রিন (Graphical Screen), যা মাউস দিয়ে ক্লিক করে ব্যবহার করা যায়। এটি দেখতে সহজ হলেও পেশাদার টিকেটিং কাজের জন্য ক্রিপ্টিক কমান্ডের দক্ষতা থাকা খুবই প্রয়োজন ১০।

ট্রাভেল এজেন্সিতে Galileo GDS-এর প্রধান কাজ ও গুরুত্ব

একটি ট্রাভেল এজেন্সির প্রতিদিনের মূল কাজগুলো Galileo GDS-এর মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। এর প্রধান কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্লাইট অ্যাভেইলেবিলিটি বা সিটের প্রাপ্যতা চেক করা, সঠিক ভাড়া বের করা এবং যাত্রীর জন্য একটি PNR (Passenger Name Record) তৈরি করা ১০। নিচে এর কাজের ধাপ ও গুরুত্ব বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. রিয়েল-টাইম ফ্লাইট বুকিং ও অ্যাভেইলেবিলিটি

Galileo ব্যবহার করে একজন এজেন্ট মুহূর্তের মধ্যেই জানতে পারেন কোন ফ্লাইটে কতটি সিট খালি আছে এবং কোন ক্লাসে (যেমন: Economy বা Business) সিট পাওয়া যাচ্ছে ১০। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকা থেকে দুবাই যাওয়ার ফ্লাইটের জন্য Galileo-তে একটি নির্দিষ্ট কমান্ড (যেমন: A20DECDACDXB) ব্যবহার করে দ্রুত তথ্য বের করা সম্ভব ১০।

২. PNR তৈরি ও যাত্রী তথ্য সংরক্ষণ

যেকোনো বুকিং সম্পন্ন করার জন্য একটি PNR তৈরি করা বাধ্যতামূলক। Galileo-তে একটি পূর্ণাঙ্গ PNR তৈরি করতে ৫টি মৌলিক উপাদান প্রয়োজন হয় ১০:

এই ৫টি উপাদান পূরণ করে PNR সেভ না করা পর্যন্ত বুকিংটি নিশ্চিত হয় না ১০।

৩. ভাড়া নির্ধারণ ও ই-টিকেট ইস্যু

Galileo শুধুমাত্র সিট বুকিং নয়, বরং জটিল সব ভাড়ার নিয়ম (Fare Rules) বুঝতেও সাহায্য করে। এটি যাত্রীকে জানায় যে টিকিটটি কতদিন আগে কিনতে হবে, রিফান্ড বা পরিবর্তন করলে কত টাকা জরিমানা দিতে হবে এবং ব্যাগেজ পলিসি কী ১০। সব তথ্য যাচাই করার পর এজেন্ট সরাসরি সিস্টেম থেকে ই-টিকেট ইস্যু করতে পারেন ১০।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, Galileo GDS হলো একজন ট্রাভেল এজেন্টের জন্য একটি শক্তিশালী টুল, যা ছাড়া আধুনিক এয়ার টিকেটিং ইন্ডাস্ট্রি কল্পনা করা কঠিন। এটি কাজের গতি বাড়ায় এবং নির্ভুলভাবে যাত্রী সেবা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে ১০।

Galileo GDS-এ PNR তৈরির প্রক্রিয়া ও কমান্ডের ধারণা

ট্রাভেল টিকেটিংয়ের জগতে PNR বা Passenger Name Record হলো একটি যাত্রীর বুকিংয়ের ডিজিটাল পরিচয়পত্র। আপনি যখন কোনো যাত্রীর জন্য ফ্লাইট বুক করেন, তখন সিস্টেমটি সেই যাত্রীর নাম, ভ্রমণের রুট, যোগাযোগের তথ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিবরণ দিয়ে একটি ইউনিক কোড তৈরি করে, যাকে PNR বলা হয়। Galileo GDS-এ একটি সঠিক এবং পূর্ণাঙ্গ PNR তৈরি করা একজন এজেন্টের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এটি ছাড়া কোনো টিকিট ইস্যু করা বা বুকিং নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

Galileo-তে কাজ করার সময় আপনাকে মূলত 'ক্রিপ্টিক কমান্ড' ব্যবহার করতে হয়। যদিও বর্তমানে অনেক গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেস বা মাউস দিয়ে ক্লিক করার সুবিধা আছে, কিন্তু পেশাদার এজেন্টরা দ্রুত কাজ করার জন্য ছোট ছোট কমান্ড টাইপ করাকেই প্রাধান্য দেন। একটি পূর্ণাঙ্গ PNR তৈরি করার জন্য আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু ধাপ অনুসরণ করতে হয়। নিচে Galileo-তে একটি সাধারণ বুকিং বা PNR তৈরির ধাপগুলো দেওয়া হলো:

  1. ফ্লাইট অ্যাভেইলেবিলিটি চেক করা: প্রথমে নির্দিষ্ট রুট এবং তারিখ দিয়ে ফ্লাইটের সিট খালি আছে কি না তা যাচাই করতে হয়।
  2. সিট বা সেগমেন্ট নির্বাচন: অ্যাভেইলেবিলিটি লিস্ট থেকে যাত্রীর পছন্দমতো ফ্লাইট এবং ক্লাস নির্বাচন করে বুকিং করতে হয়।
  3. নাম এন্ট্রি (Name Entry): যাত্রীর পাসপোর্ট অনুযায়ী সঠিক নাম সিস্টেমে ইনপুট দিতে হয় (Galileo-তে এটি N. কমান্ড দিয়ে করা হয়)।
  4. যোগাযোগের তথ্য প্রদান (Contact): এজেন্সির ফোন নম্বর বা ইমেইল অ্যাড্রেস যোগ করতে হয় (Galileo-তে এটি P. কমান্ড দিয়ে করা হয়)।
  5. টিকিটিং টাইম লিমিট সেট করা (Ticketing): টিকিটটি কত সময়ের মধ্যে ইস্যু করতে হবে তার সময়সীমা নির্ধারণ করতে হয় (Galileo-তে এটি T. কমান্ড দিয়ে করা হয়)।
  6. রিসিভড ফ্রম (Received From): বুকিংটি কার কাছ থেকে বা কোন মাধ্যম থেকে এসেছে তা লিখে দিতে হয় (Galileo-তে এটি R. কমান্ড দিয়ে করা হয়)।
  7. PNR সেভ বা এন্ড করা: সব তথ্য ঠিক থাকলে কমান্ড দিয়ে PNR-টি সিস্টেমে স্থায়ীভাবে সেভ করতে হয়।

মনে রাখবেন, এই ৫টি বা ৬টি বাধ্যতামূলক উপাদান পূরণ না করলে আপনার বুকিংটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে এবং পরবর্তীতে টিকিট ইস্যু করতে গিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

Galileo বনাম Amadeus ও Sabre: কমান্ড ও কাজের তুলনা

ট্রাভেল এজেন্সিগুলোতে কাজ করার সময় আপনি হয়তো দেখবেন যে সব জায়গায় একই ধরণের কাজ করা হলেও কমান্ডগুলো কিছুটা ভিন্ন। মূলত তিনটি প্রধান GDS—Amadeus, Sabre এবং Travelport Galileo—সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। যদিও এদের কাজের মূল উদ্দেশ্য বা লজিক একই, কিন্তু প্রতিটি সিস্টেমের নিজস্ব কমান্ড স্টাইল বা ভাষা রয়েছে। একজন দক্ষ টিকেটিং এজেন্ট হিসেবে আপনাকে এই পার্থক্যগুলো বুঝতে হবে।

নিচের টেবিলে তিনটি প্রধান GDS-এর মধ্যে PNR তৈরির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বাধ্যতামূলক উপাদানগুলোর কমান্ডের একটি তুলনামূলক চিত্র দেওয়া হলো:

PNR-এর উপাদান Amadeus কমান্ড Sabre কমান্ড Travelport Galileo কমান্ড
Name (নাম) NM - (হাইফেন) N.
Itinerary (ফ্লাইট) SS 0 (শূন্য) 0 বা N
Contact (যোগাযোগ) AP 9 P.
Ticketing (টিকিটিং) TK 7 T.
Received From RF 6 R.

টেবিলটি থেকে স্পষ্ট যে, কমান্ডগুলো দেখতে আলাদা হলেও এদের কাজ একদম এক। যেমন, Amadeus-এ যোগাযোগের জন্য AP ব্যবহার করলে Galileo-তে আপনাকে P. ব্যবহার করতে হবে। চাকরির ইন্টারভিউতে রিক্রুটাররা প্রায়ই এই কমান্ডগুলোর পার্থক্য এবং দ্রুততা পরীক্ষা করে দেখেন। আপনি যদি শুধু একটি সিস্টেমের ওপর নির্ভর না করে সবগুলোর বেসিক কনসেপ্ট এবং কমান্ডের ধরন সম্পর্কে ধারণা রাখেন, তবে আপনি যেকোনো এজেন্সিতে দ্রুত কাজ শুরু করতে পারবেন।

বাংলাদেশে Galileo GDS ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাধারণ ভুল ও সতর্কতা

বাংলাদেশে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোতে কাজ করার সময় অনেক নতুন কর্মী বা এমনকি অভিজ্ঞ এজেন্টরাও কিছু কমন ভুল করে থাকেন। এই ভুলগুলো অনেক সময় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি বা যাত্রীর সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে Galileo বা এই ধরণের GDS ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

১. সিভিতে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের ভুল: বাংলাদেশে অনেক চাকরিপ্রার্থী তাদের সিভিতে লিখে দেন "Expert in Amadeus, Sabre, Galileo"। যদি আপনি কেবল একটি সিস্টেমের বেসিক জানেন, তবে এটি একটি বড় ভুল। ইন্টারভিউয়াররা যখন আপনাকে অন্য একটি সিস্টেমে কমান্ড দিতে বলবেন এবং আপনি না পারলে আপনার গ্রহণযোগ্যতা কমে যাবে। তাই সিভিতে কেবল আপনি যে কাজগুলো পারেন (যেমন: PNR তৈরি বা রিফান্ড ক্যালকুলেশন) সেগুলোই স্পষ্টভাবে লিখুন।

২. PNR স্ট্যাটাস দেখে নিশ্চিত হওয়া: এটি একটি অত্যন্ত সাধারণ ভুল। অনেক এজেন্ট মনে করেন PNR-এ যদি ফ্লাইটের পাশে HK (Confirmed) লেখা থাকে, তবেই যাত্রী নিশ্চিত। কিন্তু এটি ভুল! আপনাকে অবশ্যই ই-টিকেট ডাটাবেসে গিয়ে চেক করতে হবে যে টিকেটটির কুপন স্ট্যাটাস OPEN আছে কি না। যাত্রী যদি অনলাইনে চেক-ইন করে ফেলেন, তবে টিকেট রিইস্যু বা রিফান্ড করার সময় সিস্টেমে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

৩. Timatic বা ভিসা নিয়ম যাচাই না করা: অনেক সময় এজেন্টরা শুধু ফ্লাইটের ভাড়া ও সিট দেখে টিকিট কেটে ফেলেন, কিন্তু যাত্রীর পাসপোর্ট বা ভিসার শর্তাবলী যাচাই করেন না। Galileo-র মাধ্যমে আপনি Timatic চেক করতে পারেন, যা যাত্রীর জাতীয়তা ও গন্তব্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ভিসা বা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করে। যাত্রীকে সঠিক তথ্য না দিলে পরবর্তীতে এয়ারপোর্টে গিয়ে যাত্রী বিমানে উঠতে না পারার মতো বড় সমস্যা হতে পারে।

প্র্যাকটিক্যাল টিপস: আপনি যদি নতুন হয়ে থাকেন, তবে সরাসরি রিয়েল GDS-এ কাজ করার আগে একটি সিমুলেটর বা ল্যাবে প্র্যাকটিস করুন। কমান্ডগুলো মুখস্থ না করে সেগুলোর লজিক বোঝার চেষ্টা করুন। এতে আপনি যেকোনো নতুন GDS সিস্টেমে খুব দ্রুত মানিয়ে নিতে পারবেন।

NDC প্রযুক্তি এবং Galileo GDS-এর ভবিষ্যৎ

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী এয়ারলাইন ইন্ডাস্ট্রি একটি বড় ধরনের প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার নাম হলো NDC বা New Distribution Capability ১০। অনেক ট্রাভেল প্রফেশনালদের মনে একটি ভুল ধারণা বা মিস্টেক আছে যে, NDC আসার ফলে Galileo বা Amadeus-এর মতো GDS কোম্পানিগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন; NDC আসলে GDS-এর বিকল্প নয়, বরং এটি একটি নতুন ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল যা GDS-এর পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে ১০।

প্রথাগত GDS পদ্ধতিতে এয়ারলাইনগুলো তাদের সিট এবং ভাড়ার তথ্য একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাটে পাঠাত। কিন্তু NDC প্রযুক্তিটি XML-ভিত্তিক, যা এয়ারলাইনগুলোকে তাদের ডাইনামিক অফার বা বিশেষ সেবাগুলো (যেমন: অতিরিক্ত ব্যাগেজ, নির্দিষ্ট সিট বা মিলস) সরাসরি ট্রাভেল এজেন্ট বা অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির (OTA) কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ দেয় ১০। আধুনিক GDS কোম্পানিগুলো এখন এই NDC কন্টেন্টকেও নিজেদের সিস্টেমে এগ্রিগেট বা যুক্ত করছে, যাতে একজন এজেন্ট একটি মাত্র স্ক্রিন থেকেই সব ধরণের অফার দেখতে পান ১০।

পেমেন্টের ক্ষেত্রেও এখানে একটি বড় পার্থক্য রয়েছে। সাধারণ GDS ট্রানজ্যাকশনে সাধারণত এজেন্সি বা BSP মার্চেন্ট হিসেবে কাজ করে। কিন্তু NDC ট্রানজ্যাকশনে অনেক সময় এয়ারলাইন নিজেই 'Merchant of Record' হিসেবে কাজ করে এবং ক্রেডিট কার্ড পেমেন্ট সরাসরি এয়ারলাইনের কাছে ফরোয়ার্ড করা হয় ১০। এছাড়া লো-কস্ট ক্যারিয়ার বা কম খরচের এয়ারলাইনগুলো (যেমন: AirAsia বা IndiGo) অনেক সময় সরাসরি তাদের নিজস্ব API-এর মাধ্যমে কাজ করে, যারা ঐতিহ্যবাহী GDS-এর নিয়ম মেনে চলে না ১০। তাই একজন আধুনিক টিকেটিং এজেন্টের জন্য শুধু Galileo কমান্ড জানলে চলবে না, বরং NDC এবং API-এর কাজের ধরন সম্পর্কেও ধারণা থাকা প্রয়োজন ১০।

এয়ার টিকেটিংয়ে ক্যারিয়ার গড়ার সঠিক উপায়

বাংলাদেশে ট্রাভেল এজেন্সি বা এয়ারলাইন সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে আপনাকে কেবল একটি সফটওয়্যার চালানো শিখলে চলবে না, বরং আপনাকে পুরো ইন্ডাস্ট্রির লজিক বুঝতে হবে। অনেকে মনে করেন শুধু একটি GDS-এর নাম জানলেই চাকরি পাওয়া সম্ভব, কিন্তু এটি একটি বড় ভুল। একজন রিক্রুটার বা নিয়োগকর্তা মূলত দেখতে চান আপনি কতটা নির্ভুলভাবে একটি PNR তৈরি করতে পারেন, কীভাবে জটিল ভাড়ার নিয়ম (Fare Rules) বিশ্লেষণ করতে পারেন এবং কীভাবে রিইস্যু বা রিফান্ড ক্যালকুলেশন করতে পারেন।

এই সেক্টরে সফল হওয়ার জন্য নিচের বিষয়গুলোতে দক্ষতা অর্জন করা জরুরি:

আপনি যদি একদম নতুন হয়ে থাকেন, তবে সরাসরি কোনো এজেন্সিতে কাজ শুরু করার আগে একটি প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা সিমুলেটর ভিত্তিক ল্যাব ব্যবহার করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। বাস্তব GDS-এ কাজ করার সময় সামান্য একটি ভুলও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই একটি সিমুলেটরে কাল্পনিক ফ্লাইট ও ভাড়া নিয়ে বারবার প্র্যাকটিস করলে আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং আপনি যেকোনো ইন্টারভিউ বা কাজের পরিবেশে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারবেন। মনে রাখবেন, কমান্ড মুখস্থ করার চেয়ে কমান্ডের পেছনের লজিক বোঝাটাই হলো আসল দক্ষতা।

ট্রাভেল এজেন্সি এয়ার টিকেটিং মাস্টার কোর্স

এয়ারপোর্ট-এয়ারলাইন কোড থেকে GDS কমান্ড, PNR, ভাড়ার নিয়ম, টিকিট ইস্যু, রিইস্যু-রিফান্ড, ভিসা-ডকুমেন্ট আর অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি (OTA) — বাংলায়, ধাপে ধাপে। প্রতিটি কমান্ড ব্রাউজারের “টিকেটিং ল্যাব” সিমুলেটরে অনুশীলন করুন (Amadeus-ধাঁচের কমান্ড; আসল GDS নয়, ফ্লাইট ও ভাড়া কাল্পনিক)। সার্টিফিকেট IATA বা কোনো GDS কোম্পানির অফিসিয়াল সনদ নয়।

কোর্সটি দেখুন

শেষ কথা

Galileo GDS হলো আধুনিক ট্রাভেল এজেন্সির একটি অপরিহার্য অংশ। এটি কেবল একটি বুকিং সিস্টেম নয়, বরং এটি এয়ারলাইন এবং এজেন্সির মধ্যে একটি শক্তিশালী সংযোগকারী। আপনি যদি এই সেক্টরে পেশাদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, তবে Galileo-র কমান্ড এবং এর কাজের পদ্ধতিগুলো সঠিকভাবে আয়ত্ত করা আপনার ক্যারিয়ারের জন্য একটি মজবুত ভিত্তি তৈরি করবে।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

Galileo GDS কী?

Galileo হলো একটি Global Distribution System (GDS), যা ট্রাভেল এজেন্টদের বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট, সিট এবং ভাড়ার তথ্য রিয়েল-টাইমে দেখার ও বুক করার সুযোগ দেয়।

Galileo কি শেখা খুব কঠিন?

এর কমান্ডগুলো শুরুতে কিছুটা কঠিন মনে হতে পারে, তবে একবার এর লজিক বা নিয়মগুলো বুঝে ফেললে এটি অত্যন্ত দ্রুত এবং সহজ হয়ে যায়।

বাংলাদেশে কি Galileo ব্যবহার করা হয়?

হ্যাঁ, বাংলাদেশে অনেক বড় ট্রাভেল এজেন্সি এবং এয়ারলাইনস Galileo ব্যবহার করে থাকে এবং বাংলাদেশে এর জন্য স্থানীয় অপারেটরও রয়েছে।

Amadeus আর Galileo কি একই জিনিস?

না, এরা দুটি আলাদা GDS কোম্পানি। এদের কাজের পদ্ধতি ও লজিক এক হলেও কমান্ড বা কোডগুলো একে অপরের থেকে ভিন্ন।

GDS শিখলে কি ট্রাভেল এজেন্সিতে চাকরি পাওয়া সহজ হয়?

GDS শেখা এয়ার টিকেটিং সেক্টরে কাজ করার জন্য একটি মৌলিক দক্ষতা। এটি জানলে আপনি ট্রাভেল এজেন্সিতে টিকেটিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করার জন্য নিজেকে যোগ্য হিসেবে প্রমাণ করতে পারবেন।

Galileo দিয়ে কি সব এয়ারলাইনের টিকিট কাটা যায়?

Galileo-র মাধ্যমে বিশ্বের অধিকাংশ বড় এয়ারলাইন এবং অনেক লো-কস্ট ক্যারিয়ারের টিকিট কাটা সম্ভব।

তথ্যসূত্র

  1. IATA - New Distribution Capability (NDC)
শেয়ার করুন:FacebookWhatsAppLinkedIn

এয়ার টিকেটিং ও ট্রাভেল — এই বিষয়ের সব লেখা

এয়ার টিকেটিং ও ট্রাভেল বিভাগের সব লেখা →

আরও পড়ুন

এয়ার টিকেটিং ও ট্রাভেল

এয়ার টিকেট রিইস্যু কি এবং এর প্রক্রিয়া ও খরচ কীভাবে হিসাব করা হয়?

এয়ার টিকেট রিইস্যু বা এক্সচেঞ্জ হলো যাত্রার তারিখ বা রুট পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া। এই নিবন্ধে রিইস্যু করার নিয়ম ও খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

৯ মিনিট৩১ অক্টোবর, ২০২৬
এয়ার টিকেটিং ও ট্রাভেল

IATA কোর্স কি এবং এয়ার টিকেটিং শিখতে যা জানা প্রয়োজন

IATA কোর্স এবং এয়ার টিকেটিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রিতে কীভাবে কাজ করা হয় তা জানুন। এই নিবন্ধে কোর্সের বিষয়বস্তু ও গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

৮ মিনিট৩০ অক্টোবর, ২০২৬
এয়ার টিকেটিং ও ট্রাভেল

ট্রাভেল এজেন্সির কাজ কি? টিকেটিং, ভিসা ও ট্যুর প্যাকেজ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

ট্রাভেল এজেন্সি কীভাবে কাজ করে এবং এর মাধ্যমে কী কী সেবা পাওয়া যায় তা নিয়ে একটি বিস্তারিত আলোচনা।

১০ মিনিট২৮ অক্টোবর, ২০২৬