কোর্সের পাঠ ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে লেখা
সূচিপত্র
এয়ার টিকেট রিইস্যু বা Reissue হলো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া, যা মূলত যাত্রীর পূর্বের বুকিং বা টিকেটের তথ্যে পরিবর্তন আনার জন্য ব্যবহৃত হয়। যখন কোনো যাত্রী তার নির্ধারিত ফ্লাইটের তারিখ, রুট, বা বুকিং ক্লাস (RBD) পরিবর্তন করতে চান, তখন পুরনো ই-টিকেটের বিনিময়ে একটি নতুন ই-টিকেট ইস্যু করার এই পদ্ধতিটি প্রয়োগ করা হয়। অনেক সময় যাত্রীরা টিকিট কাটার পর তাদের ভ্রমণের পরিকল্পনা পরিবর্তন করেন, আর ঠিক তখনই একজন ট্রাভেল এজেন্টের জন্য রিইস্যু প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে।
সহজ কথায় বলতে গেলে, এয়ার টিকেট রিইস্যু মানে হলো একটি পুরনো টিকেটের পরিবর্তে নতুন একটি টিকেটের ব্যবস্থা করা। এটি কেবল তারিখ পরিবর্তন নয়, বরং ফ্লাইটের ধরন বা যাত্রাপথের পরিবর্তনকেও অন্তর্ভুক্ত করে। রিইস্যু করার সময় টিকেটের ভাড়ার পার্থক্য এবং এয়ারলাইন্সের নির্ধারিত পেনাল্টি বা ফি যোগ করে নতুন একটি টিকেট নম্বর তৈরি করা হয়। এই নিবন্ধে আমরা এয়ার টিকেট রিইস্যু কী, এর প্রকারভেদ এবং কীভাবে এটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে হয়, সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।
এয়ার টিকেট রিইস্যু (Reissue) কী এবং কেন প্রয়োজন?
এয়ার টিকেটিং ইন্ডাস্ট্রিতে রিইস্যু (Reissue) বা এক্সচেঞ্জ (Exchange) একটি মৌলিক ধারণা। যখন কোনো যাত্রী তার কেনা টিকেটের মূল শর্তগুলোতে পরিবর্তন আনতে চান, তখন তাকে রিইস্যু প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এই পরিবর্তনের কারণগুলো বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। যেমন—যাত্রী যদি তার ফ্লাইটের তারিখ পরিবর্তন করতে চান, অথবা যদি তিনি অন্য কোনো ফ্লাইটে বা অন্য কোনো বুকিং ক্লাসে (RBD) ভ্রমণ করতে চান, তবে রিইস্যু প্রয়োজন হয়। এমনকি যদি যাত্রীর গন্তব্য বা রুটও পরিবর্তন করতে হয়, তবে রিইস্যু ছাড়া সেটি সম্ভব নয়।
প্রযুক্তিগতভাবে দেখলে, রিইস্যু করার সময় পুরনো টিকেটের কুপন স্ট্যাটাস 'OPEN' থেকে পরিবর্তিত হয়ে 'EXCH' বা 'Exchanged' হয়ে যায়। রিইস্যু প্রক্রিয়ার একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এর মাধ্যমে যাত্রীকে একটি সম্পূর্ণ নতুন ১৩ সংখ্যার টিকেট নম্বর প্রদান করা হয়। এই নতুন টিকেটে একটি বিশেষ ফিল্ড থাকে যাকে বলা হয় "Issued in Exchange For"। এই ফিল্ডে পুরনো টিকেটের নম্বরটি যুক্ত করা হয়, যাতে এয়ারলাইন্স বা ট্রাভেল এজেন্সি সহজেই বুঝতে পারে যে এই নতুন টিকেটটি কোন পুরনো টিকেটের বিনিময়ে ইস্যু করা হয়েছে।
একজন প্রফেশনাল এয়ার টিকেটিং এক্সিকিউটিভের জন্য রিইস্যু প্রক্রিয়াটি জানা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, রিইস্যু করার সময় ভাড়ার পার্থক্য (Fare Difference) এবং এয়ারলাইন্সের পেনাল্টি সঠিকভাবে হিসাব না করলে এজেন্সির জন্য আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। রিইস্যু করার সময় মূলত তিনটি প্রধান বিষয় বিবেচনা করতে হয়: নতুন ভাড়ার সাথে পুরনো ভাড়ার পার্থক্য, ট্যাক্সের পরিবর্তন এবং এয়ারলাইন্সের নির্ধারিত চেঞ্জ ফি বা পেনাল্টি। এই প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমেই একজন যাত্রী তার পরিবর্তিত ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন টিকেটটি হাতে পান।
রিইস্যু (Reissue) বনাম রিভ্যালিডেশন (Revalidation): মূল পার্থক্যগুলো কী?
এয়ার টিকেটিং জগতে রিইস্যু (Reissue) এবং রিভ্যালিডেশন (Revalidation) শব্দ দুটি প্রায়ই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। যদিও উভয় প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্যই হলো টিকেটের তথ্যে পরিবর্তন আনা, তবে এদের কাজের পদ্ধতিতে এবং টিকেটের নম্বরের ক্ষেত্রে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। রিভ্যালিডেশন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে টিকেটের তথ্যে সামান্য পরিবর্তন করা হয়, কিন্তু টিকেটের মূল নম্বরটি অপরিবর্তিত থাকে। আগেকার দিনে যখন কোনো যাত্রী শুধু ফ্লাইটের তারিখ বা সময়ের সামান্য পরিবর্তন করতে চাইতেন এবং ভাড়ার কোনো পরিবর্তন হতো না, তখন মূলত রিভ্যালিডেশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো। রিভ্যালিডেশনের ক্ষেত্রে টিকেটের ওপর একটি ইলেকট্রনিক আপডেট বা স্টিকার ব্যবহার করে পুরনো টিকেটের তথ্যকেই সংশোধন করা হতো।
অন্যদিকে, রিইস্যু হলো একটি অনেক বেশি বিস্তৃত এবং পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া। রিইস্যু করার সময় পুরনো টিকেটটি কার্যত বাতিল বা এক্সচেঞ্জ হয়ে যায় এবং একটি সম্পূর্ণ নতুন ১৩ সংখ্যার টিকেট নম্বর ইস্যু করা হয়। বর্তমান সময়ের এয়ারলাইন পলিসি অনেক বেশি উন্নত এবং কঠোর। এখন বেশিরভাগ এয়ারলাইন্স যেকোনো ধরনের পরিবর্তনের জন্যই—তা তারিখের পরিবর্তন হোক বা রুট পরিবর্তনের—পূর্ণাঙ্গ রিইস্যু প্রক্রিয়াটি বাধ্যতামূলক করেছে। এর ফলে ভাড়ার পার্থক্য বা ট্যাক্সের পরিবর্তনগুলো অনেক বেশি নির্ভুলভাবে টিকেটে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়।
নিচের টেবিলটি রিইস্যু এবং রিভ্যালিডেশনের মূল পার্থক্যগুলো বুঝতে সাহায্য করবে:
| বৈশিষ্ট্য | রিভ্যালিডেশন (Revalidation) | রিইস্যু (Reissue) |
|---|---|---|
| টিকেটের নম্বর | পুরনো টিকেট নম্বরটিই বহাল থাকে। | সম্পূর্ণ নতুন ১৩ সংখ্যার টিকেট নম্বর ইস্যু হয়। |
| পরিবর্তনের ধরন | সাধারণত শুধু তারিখ বা সময়ের সামান্য পরিবর্তন। | তারিখ, রুট, ফ্লাইট নম্বর বা বুকিং ক্লাস (RBD) পরিবর্তন। |
| ভাড়ার পরিবর্তন | ভাড়ার কোনো পরিবর্তন হয় না। | ভাড়ার পার্থক্য (Fare Difference) যোগ হতে পারে। |
| কুপন স্ট্যাটাস | স্ট্যাটাস সাধারণত অপরিবর্তিত থাকে। | স্ট্যাটাস 'OPEN' থেকে 'EXCH' হয়ে যায়। |
| আধুনিক ব্যবহার | বর্তমানে অনেক এয়ারলাইন্স এটি ব্যবহার করে না। | বর্তমানে বেশিরভাগ এয়ারলাইন্সের জন্য এটি বাধ্যতামূলক। |
সংক্ষেপে বলতে গেলে, রিভ্যালিডেশন হলো একটি পুরনো টিকেটের তথ্য আপডেট করা, আর রিইস্যু হলো পুরনো টিকেটের বিনিময়ে একটি নতুন টিকেট তৈরি করা। একজন টিকেটিং প্রফেশনাল হিসেবে আপনাকে এয়ারলাইন্সের পলিসি অনুযায়ী বুঝতে হবে কখন রিভ্যালিডেশন সম্ভব এবং কখন রিইস্যু করা বাধ্যতামূলক।
রিইস্যু করার খরচ কীভাবে হিসাব করবেন?
রিইস্যু করার সময় যাত্রীকে কত টাকা অতিরিক্ত দিতে হবে, তা বের করার একটি নির্দিষ্ট গাণিতিক সূত্র রয়েছে। একজন দক্ষ টিকেটিং এক্সিকিউটিভ হিসেবে আপনাকে এই হিসাবটি নিখুঁতভাবে করতে হবে। রিইস্যু করার মোট অতিরিক্ত খরচ বা Total Additional Collection (ADC) বের করার সূত্রটি হলো:
ADC = Fare Difference + Tax Difference + Reissue Penalty + No-Show Fee (যদি প্রযোজ্য হয়)
এখানে প্রতিটি উপাদানের গুরুত্ব আলাদা। প্রথমত, 'Fare Difference' বা ভাড়ার পার্থক্য হলো নতুন ফ্লাইটের বেস ফেয়ার এবং পুরনো ফ্লাইটের বেস ফেয়ারের মধ্যকার পার্থক্য। যদি নতুন ভাড়া বেশি হয়, তবে সেই পার্থক্যটি যোগ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, 'Tax Difference' বা ট্যাক্সের পার্থক্য। অনেক সময় নতুন ফ্লাইটে বা নতুন রুটে ট্যাক্সের হার পরিবর্তিত হতে পারে, যা যাত্রীকে পরিশোধ করতে হয়।
তৃতীয়ত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো 'Reissue Penalty' বা চেঞ্জ ফি। এটি এয়ারলাইন্স কর্তৃক নির্ধারিত একটি নির্দিষ্ট জরিমানা। কিছু এয়ারলাইন্স (যেমন: Qatar Airways, Saudia, Emirates) এই পেনাল্টি সরাসরি টিকেটের ট্যাক্স বক্সে না নিয়ে আলাদাভাবে EMD-S (Electronic Miscellaneous Document) ইস্যু করতে বলে। চতুর্থত, যদি যাত্রী নির্ধারিত সময়ের আগে ফ্লাইট বাতিল না করে ফ্লাইট মিস করেন, তবে তাকে 'No-Show Fee' দিতে হতে পারে। এই সবকটি আইটেম সঠিকভাবে যোগ করে আপনি যাত্রীকে চূড়ান্ত ভাড়ার পরিমাণ জানাতে পারবেন।
রিইস্যু করার ধাপসমূহ: একটি প্র্যাকটিক্যাল গাইড
একটি সফল রিইস্যু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য আপনাকে কিছু সুনির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করতে হবে। GDS (যেমন Amadeus বা Sabre) ব্যবহার করে রিইস্যু করার সময় নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করা সবচেয়ে নিরাপদ:
- নতুন অ্যাভেইলেবিলিটি চেক করা: প্রথমে যাত্রীর কাঙ্ক্ষিত নতুন তারিখ বা রুটের জন্য ফ্লাইটের সিট খালি আছে কিনা তা দেখে নিন।
- ফেয়ার রুলস যাচাই করা: নতুন ফ্লাইটের ভাড়ার নিয়ম বা 'Fare Rules' (বিশেষ করে Cat 16) ভালো করে পড়ুন। সেখানে রিইস্যু ফি বা পেনাল্টি কত তা নিশ্চিত হোন।
- নতুন সেগমেন্ট বুকিং ও প্রাইসিং: নতুন ফ্লাইটের জন্য একটি নতুন PNR বা বিদ্যমান PNR-এ নতুন সেগমেন্ট যোগ করে সেটি প্রাইস (Price) করুন।
- খরচের হিসাব করা: পুরনো টিকেটের ভাড়ার সাথে নতুন ভাড়ার পার্থক্য এবং ট্যাক্স ও পেনাল্টির হিসাব করুন।
- টিকিট রিইস্যু বা এক্সচেঞ্জ করা: সব হিসাব ঠিক থাকলে GDS কমান্ড ব্যবহার করে পুরনো টিকেটের বিনিময়ে নতুন ই-টিকেট ইস্যু করুন।
- চূড়ান্ত যাচাইকরণ: নতুন টিকেটে ১৩ সংখ্যার নতুন নম্বর এসেছে কিনা এবং "Issued in Exchange For" ফিল্ডে পুরনো নম্বরটি সঠিকভাবে আছে কিনা তা যাচাই করুন।
মনে রাখবেন, শুধুমাত্র নতুন সেগমেন্ট বুক করে বা প্রাইস করে কাজ শেষ হয় না। যতক্ষণ না আপনি সফলভাবে রিইস্যু বা এক্সচেঞ্জ কমান্ডটি সম্পন্ন করছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত যাত্রীর টিকেটটি পুরনো তারিখেই থেকে যাবে। এর ফলে যাত্রী এয়ারপোর্টে গিয়ে বোর্ডিং পাস পাবেন না।
বাংলাদেশে টিকেটিং এজেন্টদের সাধারণ ভুল ও সতর্কতা
বাংলাদেশে অনেক নতুন ট্রাভেল এজেন্ট বা টিকেটিং এক্সিকিউটিভ রিইস্যু করার সময় কিছু সাধারণ ভুল করে থাকেন, যার ফলে পরবর্তীতে এয়ারলাইন্স থেকে ADM (Agency Debit Memo) বা জরিমানা আসে। এই ভুলগুলো এড়িয়ে চলা একজন প্রফেশনাল হিসেবে আপনার প্রধান দায়িত্ব।
সবচেয়ে বড় ভুলটি হলো আংশিক ব্যবহৃত (Partially Used) টিকেটের ক্ষেত্রে ভুল ভাড়া ব্যবহার করা। ধরুন, একজন যাত্রী ঢাকা থেকে দুবাই গিয়েছেন, এখন তিনি ফিরতি ফ্লাইটের তারিখ বদলাতে চান। এক্ষেত্রে আপনি যদি আজকের দিনের বর্তমান ভাড়া (Current Fare) দিয়ে হিসাব করেন, তবে তা ভুল হবে। আংশিক ব্যবহৃত টিকেটের ক্ষেত্রে আপনাকে মূল টিকেট ইস্যুর সময়ের ঐতিহাসিক ভাড়া (Historical Fare) ব্যবহার করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, পেনাল্টি বা চেঞ্জ ফি সংগ্রহের ক্ষেত্রে ভুল পদ্ধতি অবলম্বন করা। কিছু এয়ারলাইন্স স্পষ্টভাবে বলে দেয় যে পেনাল্টি সরাসরি টিকেটের ট্যাক্স কোডে (যেমন CP, XP বা OA কোড) বসানো যাবে না, বরং তা EMD-S দিয়ে আলাদাভাবে নিতে হবে। যদি আপনি ভুল করে ট্যাক্স বক্সে পেনাল্টি বসান, তবে এয়ারলাইন্স থেকে নিশ্চিতভাবে ADM আসবে।
নিচে একটি চেকলিস্ট দেওয়া হলো যা আপনাকে রিইস্যু করার সময় সাহায্য করবে:
| বিষয় | কী চেক করবেন? |
|---|---|
| ভাড়ার ধরন | এটি কি সম্পূর্ণ অব্যবহৃত নাকি আংশিক ব্যবহৃত টিকেট? |
| পেনাল্টি পদ্ধতি | পেনাল্টি কি ট্যাক্স বক্সে বসবে নাকি EMD ইস্যু করতে হবে? |
| ভাড়ার ভিত্তি | আংশিক ব্যবহৃত টিকেটের ক্ষেত্রে Historical Fare ব্যবহার করা হয়েছে কি? |
| নতুন টিকেট নম্বর | নতুন ১৩ সংখ্যার নম্বরটি সঠিকভাবে জেনারেট হয়েছে কি? |
এই সতর্কতাগুলো মেনে চললে আপনি অনাকাঙ্ক্ষিত জরিমানা এবং যাত্রীর ভোগান্তি উভয়ই এড়াতে পারবেন।
রিইস্যু সংক্রান্ত কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা (Myths vs. Facts)
এয়ার টিকেটিং নিয়ে কাজ করার সময় অনেক সময় কিছু ভুল ধারণা বা মিথ দেখা যায়। এই ভুল ধারণাগুলো থাকলে যাত্রীদের ভুল তথ্য দেওয়া হতে পারে, যা পরবর্তীতে এজেন্সির জন্য আইনি বা আর্থিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। নিচে রিইস্যু সংক্রান্ত কিছু সাধারণ মিথ এবং সেগুলোর সঠিক তথ্য তুলে ধরা হলো:
- মিথ: রিইস্যু মানেই টিকেট বাতিল করে টাকা ফেরত পাওয়া।
ফ্যাক্ট: রিইস্যু হলো টিকেটের তথ্য পরিবর্তন বা এক্সচেঞ্জ করা, আর টিকেট বাতিল করে টাকা ফেরত নেওয়াকে বলা হয় রিফান্ড। - মিথ: রিইস্যু করলে সবসময় অনেক বেশি টাকা দিতে হয়।
ফ্যাক্ট: এটি নির্ভর করে টিকেটের ফেয়ার রুলস এবং নতুন ভাড়ার ওপর। যদি নতুন ফ্লাইটের ভাড়া পুরনো ভাড়ার সমান হয় এবং কোনো পেনাল্টি না থাকে, তবে অতিরিক্ত টাকা নাও লাগতে পারে। - মিথ: যেকোনো টিকেটই রিইস্যু করা সম্ভব।
ফ্যাক্ট: কিছু কিছু প্রোমোশনাল বা ডিসকাউন্টেড টিকেট থাকে যেগুলোর নিয়মে 'Non-changeable' লেখা থাকে। সেই টিকেটগুলো রিইস্যু করা সম্ভব নয়। - মিথ: রিইস্যু করার পর পুরনো টিকেটটিও ব্যবহার করা যায়।
ফ্যাক্ট: রিইস্যু হয়ে গেলে পুরনো টিকেটের কুপন স্ট্যাটাস 'EXCH' হয়ে যায়, তাই সেটি আর ব্যবহার করা সম্ভব নয়। আপনাকে অবশ্যই নতুন ১৩ সংখ্যার টিকেটটি ব্যবহার করতে হবে।
এয়ার টিকেটিং পেশায় রিইস্যু ও রিফান্ড দক্ষতার গুরুত্ব
আপনি যদি ট্রাভেল এজেন্সিতে একজন সফল এয়ার টিকেটিং এক্সিকিউটিভ বা অফিসার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তবে রিইস্যু এবং রিফান্ড প্রক্রিয়াটি আয়ত্ত করা অপরিহার্য। কারণ একটি এজেন্সির প্রতিদিনের কাজের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে এই ধরনের পরিবর্তন বা রিকুইজিশন হ্যান্ডলিং করা। একজন দক্ষ প্রফেশনাল কেবল GDS কমান্ড চালাতে জানেন না, বরং তিনি বুঝতে পারেন কখন কোন ফেয়ার রুল প্রয়োগ করতে হবে।
রিইস্যু করার সময় সঠিক হিসাব করতে না পারলে এজেন্সির লস হতে পারে, আবার ভুল তথ্য দিলে যাত্রীর সাথে সম্পর্কের অবনতি হতে পারে। বিশেষ করে আংশিক ব্যবহৃত (Partially Used) টিকেটের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ভাড়া (Historical Fare) ব্যবহার করা এবং পেনাল্টি সংগ্রহের সঠিক পদ্ধতি জানা একজন টিকেটিং প্রফেশনালের জন্য সবচেয়ে বড় দক্ষতা। এই দক্ষতাগুলো অর্জন করতে পারলে আপনি যেকোনো বড় ট্রাভেল এজেন্সি বা অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি (OTA)-তে আত্মবিশ্বাসের সাথে কাজ করতে পারবেন।
ট্রাভেল এজেন্সি এয়ার টিকেটিং মাস্টার কোর্স
এয়ারপোর্ট-এয়ারলাইন কোড থেকে GDS কমান্ড, PNR, ভাড়ার নিয়ম, টিকিট ইস্যু, রিইস্যু-রিফান্ড, ভিসা-ডকুমেন্ট আর অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি (OTA) — বাংলায়, ধাপে ধাপে। প্রতিটি কমান্ড ব্রাউজারের “টিকেটিং ল্যাব” সিমুলেটরে অনুশীলন করুন (Amadeus-ধাঁচের কমান্ড; আসল GDS নয়, ফ্লাইট ও ভাড়া কাল্পনিক)। সার্টিফিকেট IATA বা কোনো GDS কোম্পানির অফিসিয়াল সনদ নয়।
আপনি কি প্রফেশনাল এয়ার টিকেটিং শিখতে চান? আমাদের ট্রাভেল এজেন্সি এয়ার টিকেটিং মাস্টার কোর্স-এ যোগ দিন এবং হাতে-কলমে GDS কমান্ড, PNR তৈরি এবং রিইস্যু-রিফান্ড প্রক্রিয়া শিখুন।
শেষ কথা
এয়ার টিকেট রিইস্যু হলো একটি জটিল কিন্তু অত্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া। সঠিক পদ্ধতি এবং এয়ারলাইন্সের নিয়ম মেনে রিইস্যু করতে পারলে যাত্রী এবং এজেন্সি উভয়ই উপকৃত হয়। আপনি যদি এই বিষয়ে পেশাদারভাবে শিখতে চান, তবে আমাদের কোর্সটি আপনার জন্য একটি চমৎকার সুযোগ হতে পারে।
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
রিইস্যু কি রিফান্ডের মতো?
না, রিইস্যু হলো টিকেটের তথ্য পরিবর্তন বা এক্সচেঞ্জ করা, আর রিফান্ড হলো টিকেট বাতিল করে টাকা ফেরত নেওয়া।
রিইস্যু করতে কি সবসময় অতিরিক্ত টাকা লাগে?
সব ক্ষেত্রে নয়। যদি নতুন ফ্লাইটের ভাড়া পুরনো ভাড়ার সমান হয় এবং টিকেটের নিয়মে কোনো পেনাল্টি না থাকে, তবে অতিরিক্ত টাকা নাও লাগতে পারে। তবে সাধারণত ভাড়ার পার্থক্য বা পেনাল্টি দিতে হয়।
রিইস্যু করার পর কি পুরনো টিকেট ব্যবহার করা যায়?
না, রিইস্যু হয়ে গেলে পুরনো টিকেটের কুপন স্ট্যাটাস 'EXCH' হয়ে যায়, তাই সেটি আর ব্যবহার করা সম্ভব নয়। আপনাকে নতুন ১৩ সংখ্যার টিকেটটি ব্যবহার করতে হবে।
রিইস্যু কি আমি নিজে অনলাইনে করতে পারি?
হ্যাঁ, অনেক এয়ারলাইনস বা অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি (OTA) তাদের ওয়েবসাইটে এই সুবিধা দেয়। তবে জটিল রুট বা আংশিক ব্যবহৃত টিকেটের ক্ষেত্রে এজেন্সির সাহায্য নেওয়া নিরাপদ।
রিইস্যু করতে কত সময় লাগে?
এটি নির্ভর করে এয়ারলাইন্স এবং এজেন্সির কাজের ওপর। সাধারণত GDS-এ কমান্ড ব্যবহার করে এটি তাৎক্ষণিকভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।
