কোর্সের পাঠ ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে লেখা
সূচিপত্র
ট্রাভেল এজেন্সিতে কাজ করতে চাইলে আপনাকে GDS বা Global Distribution System সম্পর্কে জানতে হবে। এর মধ্যে Amadeus একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় সিস্টেম। Amadeus কমান্ড হলো সেই ছোট ছোট কোড বা নির্দেশাবলী, যা ব্যবহার করে একজন ট্রাভেল এজেন্ট ফ্লাইট খোঁজা, সিট বুক করা এবং যাত্রীর তথ্য বা PNR তৈরি করতে পারেন।
আপনি যদি এয়ার টিকেটিং শিখতে চান, তবে এই কমান্ডগুলোর ওপর দখল থাকা খুবই জরুরি। অনেক সময় ইন্টারভিউতে সরাসরি এই ক্রিপ্টিক কমান্ডগুলো টাইপ করে দেখাতে বলা হয়। আমাদের এই নিবন্ধে আমরা নতুনদের জন্য Amadeus-এর মৌলিক কমান্ডগুলো এবং কীভাবে এগুলো কাজ করে তা সহজভাবে তুলে ধরব।
GDS কী এবং কেন ক্রিপ্টিক কমান্ড জানা জরুরি?
GDS বা Global Distribution System হলো এমন একটি প্রযুক্তিগত মাধ্যম যা বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারলাইন, হোটেল এবং কার রেন্টাল সার্ভিসকে একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসে। Amadeus, Sabre এবং Galileo হলো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তিনটি GDS। একজন ট্রাভেল এজেন্ট এই সিস্টেমগুলোর মাধ্যমে রিয়েল-টাইমে ফ্লাইটের সিট এবং ভাড়া দেখতে পারেন।
GDS ব্যবহারের মূলত দুটি পদ্ধতি রয়েছে। প্রথমটি হলো গ্রাফিক্যাল বা ওয়েব স্ক্রিন, যেখানে মাউস দিয়ে ক্লিক করে কাজ করা যায়। এটি দেখতে সহজ হলেও পেশাদার কাজের জন্য খুব একটা দ্রুত নয়। দ্বিতীয়টি হলো ক্রিপ্টিক কমান্ড (Cryptic Command)। এটি দেখতে অনেকটা পুরনো দিনের DOS সিস্টেমের মতো, যেখানে ছোট ছোট কোড টাইপ করে কাজ করতে হয়।
চাকরির ক্ষেত্রে ক্রিপ্টিক কমান্ডের গুরুত্ব অপরিসীম। যদিও গ্রাফিক্যাল স্ক্রিন ব্যবহার করা সহজ, কিন্তু অভিজ্ঞ ট্রাভেল এজেন্টরা ক্রিপ্টিক কমান্ড ব্যবহার করেন কারণ এটি অনেক বেশি দ্রুত। একটি জটিল বুকিং বা রিইস্যু করার কাজ গ্রাফিক্যাল স্ক্রিনে যেখানে অনেক সময়সাপেক্ষ, ক্রিপ্টিক কমান্ডে তা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই করা সম্ভব। তাই আপনি যদি ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার পরিকল্পনা করেন, তবে এই কমান্ডগুলো আয়ত্ত করা আপনার জন্য একটি বড় দক্ষতা হিসেবে গণ্য হবে।
মনে রাখবেন, কোনো একটি নির্দিষ্ট GDS শিখলেই কাজ শেষ নয়। কারণ নিয়োগকর্তারা Amadeus, Sabre বা Galileo—যেকোনোটিই চাইতে পারেন। তবে কমান্ডের মূল কনসেপ্ট বা ধারণাগুলো প্রায় একই রকম থাকে। তাই একবার একটি সিস্টেমের কমান্ডের ধরন বুঝে ফেললে অন্য সিস্টেমে সুইচ করা অনেক সহজ হয়ে যায়।
টিকেটিং ল্যাবে প্রথম পদক্ষেপ: কমান্ড ডিকোড ও অ্যাভেইলেবিলিটি
এয়ার টিকেটিং শেখার শুরুতে সরাসরি আসল GDS ব্যবহার করা কঠিন হতে পারে, কারণ এর অ্যাক্সেস সাধারণত বড় এজেন্সিগুলোর কাছে থাকে। এজন্য আমাদের কোর্সে একটি বিশেষ "টিকেটিং ল্যাব" সিমুলেটর ব্যবহার করা হয়। এটি Amadeus-এর কমান্ড স্টাইল অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে, যাতে আপনি কোনো ভুল বুকিং বা আর্থিক ক্ষতির ভয় ছাড়াই প্র্যাকটিস করতে পারেন ৬।
সিমুলেটরে কাজ শুরু করার জন্য প্রথমেই আপনাকে কমান্ডের তালিকা দেখতে হবে। আপনি যদি কোনো কমান্ড ভুলে যান, তবে সিমুলেটরের কমান্ড লাইনে HELP লিখে Enter চাপলেই সব কমান্ডের একটি লিস্ট চলে আসবে। এটি আপনার শেখার যাত্রাকে অনেক সহজ করে দেবে।
টিকিট বুকিংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো অ্যাভেইলেবিলিটি (Availability) চেক করা। অনেক নতুন শিক্ষার্থী টাইমটেবিল (Timetable) এবং অ্যাভেইলেবিলিটির মধ্যে পার্থক্য করতে ভুল করেন। টাইমটেবিল কমান্ড (যেমন Amadeus-এ TN বা SN) শুধুমাত্র দেখায় যে কোন রুটে কোন এয়ারলাইন্স সপ্তাহে কোন কোন দিনে ফ্লাইট চালায়। কিন্তু এটি বলে না যে ওই ফ্লাইটে সিট খালি আছে কি না।
অন্যদিকে, অ্যাভেইলেবিলিটি কমান্ড (Amadeus-এ AN) ব্যবহার করে আপনি রিয়েল-টাইমে দেখতে পারেন নির্দিষ্ট তারিখে কোন ফ্লাইটে কতটি সিট খালি আছে ৫৬। মনে রাখবেন, টাইমটেবিল দেখে কখনোই যাত্রীকে সিট আছে বলে নিশ্চিত করবেন না। সবসময় অ্যাভেইলেবিলিটি চেক করে তারপর সিট অফার করা উচিত। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি ২০ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে দুবাইয়ের ফ্লাইট দেখতে চান, তবে কমান্ডটি হবে: AN20DECDACDXB।
এই কমান্ডটি ডিকোড করলে দেখা যায়:
- AN: অ্যাভেইলেবিলিটি দেখার কমান্ড।
- 20DEC: ভ্রমণের তারিখ (২০ ডিসেম্বর)।
- DAC: ঢাকার এয়ারপোর্ট কোড।
- DXB: দুবাইয়ের এয়ারপোর্ট কোড।
PNR তৈরি করার নিয়ম ও এর বাধ্যতামূলক উপাদান
যখন একজন যাত্রী একটি ফ্লাইট বুক করতে চান, তখন তার সমস্ত তথ্য একটি ডিজিটাল রেকর্ডে জমা রাখতে হয়। এই রেকর্ডটিকেই বলা হয় PNR বা Passenger Name Record। একটি সঠিক PNR ছাড়া টিকিট ইস্যু করা বা ফ্লাইটে ওঠা সম্ভব নয়।
একটি পূর্ণাঙ্গ PNR তৈরি করতে কিছু নির্দিষ্ট উপাদান বা এলিমেন্ট অবশ্যই থাকতে হয়। যদি কোনো একটি উপাদান বাদ পড়ে, তবে সিস্টেম আপনাকে PNR সেভ করতে দেবে না। আমাদের টিকেটিং ল্যাব সিমুলেটরে এই উপাদানগুলো সঠিকভাবে ইনপুট দেওয়া শিখতে হয় ৬।
একটি PNR তৈরির জন্য সাধারণত নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হয়:
- নাম যোগ করা (Name): যাত্রীর নাম পাসপোর্টের সাথে মিলিয়ে সঠিকভাবে টাইপ করতে হয়। যেমন: NM1RAHMAN/KARIM MR।
- ফ্লাইট সেগমেন্ট (Itinerary): যাত্রী কোন রুটে এবং কোন তারিখে ভ্রমণ করবেন, সেই ফ্লাইটের তথ্য যোগ করা।
- যোগাযোগের তথ্য (Contact): এজেন্সির ফোন নম্বর বা যাত্রীর ইমেইল অ্যাড্রেস যোগ করা।
- টিকিটিং লিমিট (Ticketing Limit): কত সময়ের মধ্যে টিকিট ইস্যু করতে হবে তার সময়সীমা নির্ধারণ করা।
- রিসিভড ফ্রম (Received From): কে বুকিংটি করছেন বা কার কাছ থেকে রিকোয়েস্ট এসেছে, তার নাম বা টাইপ করা।
- সেভ করা (End of Transaction): সব তথ্য ঠিক থাকলে ER বা অনুরূপ কমান্ড দিয়ে PNR সেভ করা।
মনে রাখবেন, নামের ক্ষেত্রে CHD (Child) বা INF (Infant) যাত্রীদের জন্য বিশেষ নিয়ম রয়েছে। টাইটেল এবং পাসপোর্টের নামের মিল থাকা অত্যন্ত জরুরি, অন্যথায় বোর্ডিংয়ের সময় সমস্যা হতে পারে।
রিটার্ন ও মাল্টি-সিটি বুকিংয়ের সহজ কৌশল
একজন যাত্রী যখন যাওয়া এবং আসা—উভয় ফ্লাইটের টিকিট একসাথে বুক করতে চান, তখন তাকে রিটার্ন বুকিং বলা হয়। ট্রাভেল এজেন্টের কাজ হলো যাত্রীকে সবচেয়ে সাশ্রয়ী এবং সুবিধাজনক ফ্লাইটের কম্বিনেশন খুঁজে দেওয়া। রিটার্ন বুকিং করার সময় আউটবাউন্ড (যাওয়ার) এবং ইনবাউন্ড (ফেরার) ফ্লাইট একই PNR-এ রাখা সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি।
রিটার্ন বুকিংয়ের ক্ষেত্রে সময় বাঁচাতে বিভিন্ন GDS-এ শর্টকাট কমান্ড ব্যবহার করা হয়। আপনি যদি প্রথমে যাওয়ার ফ্লাইটটি বুক করে ফেলেন, তবে ফেরার ফ্লাইটের জন্য নতুন করে পুরো কমান্ড টাইপ করার প্রয়োজন নেই। নিচের টেবিলে বিভিন্ন GDS-এর অ্যাভেইলেবিলিটি এবং রিটার্ন শর্টকাট কমান্ডের একটি তুলনা দেওয়া হলো:
| GDS সিস্টেম | অ্যাভেইলেবিলিটি কমান্ড | রিটার্ন শর্টকাট কমান্ড |
|---|---|---|
| Amadeus | AN + তারিখ + রুট | ACR + তারিখ (যেমন: ACR25NOV) |
| Sabre | 1 + তারিখ + রুট | 1R + তারিখ (যেমন: 1R25NOV) |
| Galileo | A + তারিখ + রুট | A/R + তারিখ (যেমন: A/R25NOV) |
রিটার্ন বুকিং করার সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস হলো, চেষ্টা করবেন যাওয়া এবং আসার ফ্লাইটে একই এয়ারলাইন্স এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ বুকিং ক্লাস ব্যবহার করতে। এতে ভাড়ার দাম অনেক সময় কম পাওয়া যায় এবং যাত্রীর জন্য ট্রানজিট বা কানেকশন বোঝা সহজ হয়।
যদি যাত্রী সরাসরি কোনো ফ্লাইট না চান বা কম খরচে ট্রানজিট করতে চান, তবে কানেক্টিং ফ্লাইট খুঁজতে হবে। কানেক্টিং ফ্লাইটের ক্ষেত্রে দুটি ফ্লাইটের মাঝখানের সময় বা Minimum Connecting Time (MCT) ঠিক আছে কি না, তা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। Amadeus-এ DMI কমান্ড ব্যবহার করে পুরো ইটিনারারি বা যাত্রাপথের কানেকশন চেক করা যায় ৬।
SSR ও DOCS: যাত্রীর বিশেষ চাহিদা ও পাসপোর্ট তথ্য যোগ করা
ফ্লাইট বুকিং বা সিট নিশ্চিত করার পর একজন এজেন্টের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। যাত্রীর বিশেষ কোনো চাহিদা আছে কি না, তা নিশ্চিত করা এবং তার প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট বা পাসপোর্ট তথ্য সিস্টেমে যোগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এই বিশেষ অনুরোধগুলোকে বলা হয় SSR বা Special Service Request।
যাত্রীর শারীরিক অবস্থা বা খাদ্যাভ্যাসের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন SSR যোগ করা হয়। যেমন, কোনো যাত্রী যদি মুসলিম খাবার চান, তবে তাকে Muslim Meal (MOML) প্রদান করতে হবে। আবার বয়স্ক বা শারীরিক প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য হুইলচেয়ার (Wheelchair/Ramp) নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এই কমান্ডগুলো সঠিকভাবে না দিলে যাত্রী এয়ারপোর্টে গিয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন।
পাসপোর্ট বা ডকুমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য (DOCS) যোগ করা এখনকার সময়ে প্রায় বাধ্যতামূলক। যাত্রীর পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয়তা, জন্ম তারিখ এবং পাসপোর্টের মেয়াদ—এই সব তথ্য PNR-এ সঠিকভাবে ইনপুট দিতে হয়। এটি মূলত এয়ারলাইনস এবং ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে যাচাই করার সুযোগ দেয়।
আমাদের টিকেটিং ল্যাব সিমুলেটরে আপনি এই কাজগুলো প্র্যাকটিস করতে পারেন ৬। উদাহরণস্বরূপ, যাত্রী ১-এর জন্য একটি মুসলিম মিল এবং হুইলচেয়ার যোগ করার কমান্ড হতে পারে:
- মুসলিম মিল: SR MOML/P1
- হুইলচেয়ার: SR WCHR/P1
পাসপোর্ট তথ্য যোগ করার কমান্ডটি কিছুটা দীর্ঘ এবং জটিল হতে পারে। একটি সঠিক ফরম্যাট হলো: SR DOCS YY HK1-P-BGD-A01234567-BGD-10MAY85-M-09MAY30-RAHMAN-MD-KARIM/P1। এখানে পাসপোর্টের ধরন, নম্বর, জাতীয়তা, জন্ম তারিখ এবং মেয়াদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। এই তথ্যগুলো ভুল হলে যাত্রী ফ্লাইটে উঠতে বাধা পেতে পারেন, তাই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এগুলো টাইপ করতে হয়।
PNR Split বা Divide: একাধিক যাত্রীর বুকিং ব্যবস্থাপনা
একজন ট্রাভেল এজেন্টের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো যখন একটি গ্রুপ বা পরিবারের একাধিক যাত্রী একই PNR-এ বুক করা থাকে। ধরুন, একটি পরিবারে ৪ জন সদস্য আছেন এবং তাদের সবার ফ্লাইট একই সময়ে। এখন যদি পরিবারের একজন সদস্য তার ভ্রমণের তারিখ পরিবর্তন করতে চান বা যাত্রা বাতিল করতে চান, তবে আপনি পুরো গ্রুপটির বুকিং পরিবর্তন করতে পারবেন না। কারণ GDS-এর নিয়ম অনুযায়ী, একই PNR-এ থাকা সকল যাত্রীর ফ্লাইট সেগমেন্ট ও বুকিং ক্লাস হুবহু এক হতে হয়।
এই সমস্যা সমাধানের উপায় হলো PNR Split বা Divide করা। এর মাধ্যমে আপনি নির্দিষ্ট একজন বা একাধিক যাত্রীকে মূল PNR থেকে আলাদা করে একটি নতুন PNR তৈরি করতে পারেন। এতে মূল যাত্রীদের বুকিং অপরিবর্তিত থাকে এবং আপনি সহজেই ওই নির্দিষ্ট যাত্রীর জন্য নতুন ফ্লাইট বা ভিন্ন ক্লাস বুক করতে পারেন।
Amadeus-এর মতো সিস্টেমে PNR Split করার প্রক্রিয়াটি বেশ সুশৃঙ্খল। নিচে এর ধাপগুলো দেওয়া হলো:
- Split কমান্ড: প্রথমে কোন যাত্রীকে আলাদা করতে চান তার নম্বর দিয়ে কমান্ড দিন। যেমন: SP2 (এটি ২ নং যাত্রীকে আলাদা করবে)।
- নতুন PNR-এ তথ্য যোগ করা: আলাদা হওয়া যাত্রীর নাম বা অন্যান্য তথ্য নতুন রেকর্ডে নিশ্চিত করুন।
- ফাইল করা: কমান্ড দিয়ে নতুন রেকর্ডটি ফাইল করুন (যেমন: EF)।
- মূল PNR-এ ফিরে আসা: মূল রেকর্ডে ফিরে এসে সব তথ্য ঠিক আছে কি না তা যাচাই করুন।
- সেভ করা: সবশেষে ER কমান্ড দিয়ে মূল PNR-টি সেভ করুন।
মনে রাখবেন, Split করার পর মূল (Parent) এবং নতুন (Child) PNR সিস্টেমের ব্যাকএন্ডে 'Associated PNR' হিসেবে যুক্ত থাকে। এটি এজেন্টদের জন্য সুবিধা দেয় যাতে তারা প্রয়োজনে দুটি রেকর্ডের মধ্যে সম্পর্ক বজায় রাখতে পারেন।
সাধারণ ভুল ও ভ্রান্ত ধারণা (Common Mistakes & Myths)
এয়ার টিকেটিং এবং GDS শেখার ক্ষেত্রে অনেক শিক্ষার্থী কিছু ভুল ধারণা বা ভ্রান্ত বিশ্বাসের শিকার হন। এই ভুলগুলো জানা থাকলে আপনি একজন দক্ষ প্রফেশনাল হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারবেন। নিচে প্রচলিত কিছু ভুল ও ভ্রান্ত ধারণা তুলে ধরা হলো:
ভ্রান্ত ধারণা ১: একটি GDS শিখলেই সব জানা। অনেকে মনে করেন Amadeus শিখলে আর অন্য কিছু শেখার প্রয়োজন নেই। যদিও Amadeus, Sabre বা Galileo-এর কাজের মূল কনসেপ্ট বা লজিক প্রায় একই, কিন্তু তাদের কমান্ড স্টাইল বা সিনট্যাক্স আলাদা। তাই একটি শিখলে অন্যটির কমান্ডগুলো দেখে নিতে হয়, কিন্তু কনসেপ্টটি আপনার জানা থাকা জরুরি।
ভ্রান্ত ধারণা ২: GDS লগইন কেনা বা ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা। আসল GDS অ্যাক্সেস সাধারণত বড় ট্রাভেল এজেন্সি বা এয়ারলাইন্সের কাছে থাকে, কোনো ব্যক্তির কাছে নয়। কেউ যদি আপনাকে 'GDS লগইন' বা 'অফিসিয়াল আইডি' বিক্রি করতে চায়, তবে সতর্ক হোন—এগুলো প্রায়ই প্রতারণা হতে পারে।
ভুল ১: টাইমটেবিল দেখে সিট নিশ্চিত করা। এটি নতুনদের করা সবচেয়ে বড় ভুল। টাইমটেবিল (Timetable) শুধুমাত্র দেখায় কোন রুটে কোন এয়ারলাইন্স ফ্লাইট চালায়। কিন্তু ওই ফ্লাইটে সিট খালি আছে কি না, তা জানার জন্য সবসময় অ্যাভেইলেবিলিটি (Availability) চেক করতে হবে।
ভুল ২: ফেয়ার রুল (Fare Rule) না পড়া। টিকিট ইস্যু করার আগে অবশ্যই ফেয়ার রুলের Cat 16 (Penalties) অংশটি চেক করতে হবে। রিফান্ড বা পরিবর্তনের নিয়ম না জানলে পরে যাত্রীকে ভুল তথ্য দেওয়া হতে পারে, যা এজেন্সির জন্য বড় ধরনের আইনি বা আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ভুল ৩: পাসপোর্ট তথ্য যাচাই না করা। যাত্রীর নাম বা পাসপোর্টের তথ্যে সামান্য ভুল থাকলেও বোর্ডিংয়ের সময় বড় সমস্যা হতে পারে। তাই PNR তৈরি করার সময় সবসময় পাসপোর্টের সাথে মিলিয়ে তথ্য ইনপুট দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।
ট্রাভেল এজেন্সি এয়ার টিকেটিং মাস্টার কোর্স
এয়ারপোর্ট-এয়ারলাইন কোড থেকে GDS কমান্ড, PNR, ভাড়ার নিয়ম, টিকিট ইস্যু, রিইস্যু-রিফান্ড, ভিসা-ডকুমেন্ট আর অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি (OTA) — বাংলায়, ধাপে ধাপে। প্রতিটি কমান্ড ব্রাউজারের “টিকেটিং ল্যাব” সিমুলেটরে অনুশীলন করুন (Amadeus-ধাঁচের কমান্ড; আসল GDS নয়, ফ্লাইট ও ভাড়া কাল্পনিক)। সার্টিফিকেট IATA বা কোনো GDS কোম্পানির অফিসিয়াল সনদ নয়।
শেষ কথা
Amadeus কমান্ড শেখা মানে এয়ার টিকেটিংয়ের জগতে প্রবেশের চাবিকাঠি হাতে পাওয়া। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যেখানে নিয়মিত প্র্যাকটিসই আপনাকে দক্ষ করে তুলবে। আমাদের টিকেটিং ল্যাব সিমুলেটরে নিয়মিত অনুশীলন করুন এবং ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রির খুঁটিনাটি বিষয়গুলো আয়ত্ত করুন।
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
Amadeus কমান্ড কি শিখলে সব GDS চালানো যাবে?
কমান্ডের স্টাইল আলাদা হলেও কাজের মূল কনসেপ্ট বা লজিক প্রায় একই। তাই Amadeus শিখলে Sabre বা Galileo বোঝা অনেক সহজ হয়ে যায়।
আমি কি নিজে নিজে Amadeus শিখতে পারি?
শুধু কমান্ড মুখস্থ করলে হবে না, এর পেছনের লজিক বুঝতে হবে। একটি ভালো সিমুলেটর বা ল্যাব থাকলে আপনি ঘরে বসেই প্র্যাকটিস করতে পারেন।
GDS শিখলে কি সরাসরি চাকরি পাওয়া যায়?
GDS জানা একটি বড় দক্ষতা, যা আপনাকে চাকরিতে এগিয়ে রাখবে। তবে চাকরি পেতে হলে আপনার কমিউনিকেশন স্কিল এবং ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রির জ্ঞানও থাকতে হবে।
টিকেটিং ল্যাব কী?
এটি একটি শিক্ষামূলক সিমুলেটর যেখানে আপনি Amadeus-এর মতো কমান্ড ব্যবহার করে ফ্লাইট বুকিং ও টিকেটিংয়ের প্র্যাকটিস করতে পারেন, কিন্তু এখানে কোনো আসল টাকা বা টিকিট জড়িত থাকে না।
PNR কী?
PNR বা Passenger Name Record হলো যাত্রীর ভ্রমণ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্যের একটি ডিজিটাল রেকর্ড, যা ফ্লাইটের বুকিং ও টিকিটিংয়ের জন্য অপরিহার্য।
