কোর্সের পাঠ ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে লেখা
সূচিপত্র
কম্পিউটার কিভাবে চালাতে হয় তা জানা বর্তমান যুগে অত্যন্ত জরুরি। মূলত কম্পিউটার চালু করা, মাউস ও কীবোর্ড দিয়ে নির্দেশ দেওয়া এবং বিভিন্ন প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার ব্যবহার করার মাধ্যমেই কম্পিউটার চালানো শিখতে হয়। আপনি যদি একদম নতুন হয়ে থাকেন, তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই; এটি একটি যন্ত্র মাত্র যা নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চললে খুব সহজেই আয়ত্ত করা সম্ভব।
কম্পিউটার চালানো শেখার জন্য আপনাকে প্রথমে এর প্রধান অংশগুলো চিনতে হবে এবং কীভাবে এটি কাজ করে তার একটি প্রাথমিক ধারণা নিতে হবে। এই নিবন্ধে আমরা খুব সহজ ভাষায় কম্পিউটার চালু করা, বন্ধ করা, মাউস ও কীবোর্ডের ব্যবহার এবং কিছু প্রয়োজনীয় শর্টকাট সম্পর্কে আলোচনা করব, যা আপনাকে একজন দক্ষ ব্যবহারকারী হতে সাহায্য করবে।
কম্পিউটার চালনার প্রথম ধাপ: কম্পিউটার চালু ও বন্ধ করার নিয়ম
কম্পিউটার চালানো শেখার প্রথম কাজ হলো এটি সঠিকভাবে চালু এবং বন্ধ করা। কম্পিউটার হলো একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র যা আমাদের দেওয়া তথ্য বা ডেটা গ্রহণ করে, প্রসেসিং করে এবং শেষে ফলাফল দেখায়। আপনি যদি ডেস্কটপ কম্পিউটার ব্যবহার করেন, তবে এটি চালানোর জন্য কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হয়। প্রথমে ইউপিএস (UPS) চালু করুন, তারপর মনিটর চালু করুন এবং সবশেষে সিস্টেম ইউনিটের (কেসিং) পাওয়ার বাটনটি একবার চাপুন। ল্যাপটপের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সহজ, কারণ এতে সবকিছু একসাথে থাকে এবং ব্যাটারি থাকায় সরাসরি পাওয়ার বাটন চাপলেই চলে।
পাওয়ার বাটন চাপার পর কম্পিউটারটি কিছু সময় লোড হয়, যাকে বলা হয় 'বুটিং'। বুটিং শেষ হলে আপনি স্ক্রিনে একটি সুন্দর ছবি বা ডেস্কটপ দেখতে পাবেন। ডেস্কটপ হলো আপনার কাজের টেবিলের মতো, যেখানে বিভিন্ন আইকন সাজানো থাকে। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা ভোল্টেজ ওঠানামা একটি সাধারণ সমস্যা, তাই ডেস্কটপ কম্পিউটারের সাথে একটি ইউপিএস (UPS) ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। এটি বিদ্যুৎ চলে গেলেও কম্পিউটারকে কিছুক্ষণ চালু রাখে, যাতে আপনি আপনার কাজ সেভ করে নিরাপদে কম্পিউটার বন্ধ করতে পারেন।
কম্পিউটার ব্যবহারের পর এটি বন্ধ করার একটি নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। কাজ শেষ হলে সরাসরি মেইন সুইচ বা প্লাগ খুলে ফেলবেন না; এতে আপনার ফাইল নষ্ট হতে পারে বা হার্ডওয়্যারের ক্ষতি হতে পারে। সঠিকভাবে বন্ধ করতে হলে মাউস দিয়ে Start বাটনে ক্লিক করুন, তারপর Power আইকনে গিয়ে Shut down অপশনটি বেছে নিন ১।
কখন কোন অপশন ব্যবহার করবেন?
অনেকে কনফিউজড হয়ে যান যে কখন Shut down করবেন আর কখন Restart করবেন। নিচে একটি সহজ তালিকা দেওয়া হলো:
| অপশন | কখন ব্যবহার করবেন |
|---|---|
| Shut down | দিনের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে এবং কম্পিউটার পুরোপুরি বন্ধ করতে চাইলে। |
| Restart | কম্পিউটার ধীরগতিতে চললে বা কোনো সফটওয়্যার আপডেটের পর। |
| Sleep | অল্প সময়ের জন্য বিরতি নিতে চাইলে, যাতে কম্পিউটার দ্রুত আবার চালু করা যায়। |
মাউস ও কীবোর্ড ব্যবহার করে কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ
কম্পিউটারকে নির্দেশ দেওয়ার জন্য মাউস ও কীবোর্ড হলো প্রধান দুটি ইনপুট ডিভাইস। মাউস দিয়ে আপনি স্ক্রিনের ওপর থাকা 'পয়েন্টার' বা তীর চিহ্নটি নাড়াচাড়া করতে পারেন। মাউসের বাম দিকের বাটনটি সাধারণত কোনো কিছু নির্বাচন করতে বা ক্লিক করতে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, মাউসের ডান দিকের বাটনটি ক্লিক করলে একটি অতিরিক্ত মেনু বা অপশন লিস্ট আসে। ল্যাপটপ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে মাউসের কাজ করে টাচপ্যাড।
মাউস ব্যবহারের সময় আপনি লক্ষ্য করবেন যে পয়েন্টারের রূপ মাঝেমধ্যে পরিবর্তন হয়। যেমন: সাধারণ অবস্থায় এটি একটি তীর চিহ্ন থাকে, কোনো লিংকের ওপর গেলে এটি হাতের আকৃতি নেয়, লেখার জায়গায় গেলে এটি 'I' আকৃতির হয় এবং কম্পিউটার যখন কোনো কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে তখন এটি একটি ঘুরন্ত বৃত্তে পরিণত হয়। যদি দেখেন কম্পিউটার ব্যস্ত বা ঘুরন্ত বৃত্ত দেখাচ্ছে, তবে বারবার ক্লিক করবেন না; বরং কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন।
কীবোর্ড হলো টাইপ করার বা লেখালেখির প্রধান মাধ্যম। তবে শুধু টাইপ করলেই হয় না, দ্রুত কাজ করার জন্য কিছু 'কীবোর্ড শর্টকাট' জানা খুবই জরুরি। শর্টকাট মানে হলো কীবোর্ডের কয়েকটি কী (Key) একসাথে চেপে দ্রুত কোনো কাজ করা। নিচে নতুনদের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কিছু শর্টকাট দেওয়া হলো:
- Ctrl + C: কোনো লেখা বা ফাইল কপি করার জন্য।
- Ctrl + V: কপি করা জিনিসটি অন্য জায়গায় পেস্ট বা বসানোর জন্য।
- Ctrl + X: কোনো কিছু কাট বা সরিয়ে নেওয়ার জন্য।
- Ctrl + Z: আপনার শেষ কাজটি ভুল হলে তা বাতিল করে আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য (এটি আপনার সবচেয়ে বড় বন্ধু!)।
- Ctrl + S: আপনার কাজ বা ফাইলটি সেভ বা সংরক্ষণ করার জন্য।
- Ctrl + A: স্ক্রিনে থাকা সব কিছু একসাথে নির্বাচন করার জন্য।
- Alt + F4: বর্তমানে খোলা থাকা উইন্ডো বা প্রোগ্রাম বন্ধ করার জন্য।
এই শর্টকাটগুলো নিয়মিত অনুশীলন করলে আপনি খুব দ্রুত কম্পিউটারে কাজ করতে পারবেন এবং আপনার কাজের গতি অনেক বেড়ে যাবে।
ফাইল ও ফোল্ডার ব্যবস্থাপনা: আপনার কাজ গুছিয়ে রাখা
কম্পিউটারে কাজ করার সময় আপনি প্রতিনিয়ত অনেক কিছু তৈরি করবেন, যেমন কোনো লেখা, ছবি, গান বা ভিডিও। এই প্রতিটি আলাদা জিনিসকে বলা হয় 'ফাইল'। এখন আপনি যদি শত শত ফাইল কোনো নিয়ম ছাড়া এলোমেলোভাবে রেখে দেন, তবে কয়েকদিন পর আপনার প্রয়োজনীয় ফাইলটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। এই সমস্যা সমাধানের জন্যই আমরা 'ফোল্ডার' ব্যবহার করি। ফোল্ডার হলো একটি ডিজিটাল বাক্সের মতো, যার ভেতরে আপনি অনেকগুলো ফাইল বা আরও অনেকগুলো ছোট ছোট ফোল্ডার সাজিয়ে রাখতে পারেন।
একটি বাস্তব উদাহরণ দিয়ে বোঝা যাক—মনে করুন আপনার কাছে অনেকগুলো কাগজ আছে। প্রতিটি কাগজ হলো একটি 'ফাইল'। এখন আপনি যদি সেই কাগজগুলো আলাদা আলাদা ফাইল বা ড্রয়ারে সাজিয়ে রাখেন, তবে আপনি সহজেই আপনার প্রয়োজনীয় কাগজটি খুঁজে পাবেন। কম্পিউটারের ক্ষেত্রেও বিষয়টি ঠিক একই। আপনি চাইলে আপনার পড়াশোনার ফাইলগুলো একটি ফোল্ডারে এবং অফিসের কাজগুলো অন্য একটি ফোল্ডারে আলাদা করে রাখতে পারেন। এতে কম্পিউটার ব্যবহার করা অনেক বেশি সহজ ও গোছানো হয়।
নতুনদের জন্য একটি নতুন ফোল্ডার তৈরি করা খুবই সহজ। নিচে ধাপে ধাপে পদ্ধতিটি দেওয়া হলো:
- প্রথমে আপনার ডেস্কটপের বা কম্পিউটারের যেকোনো ফাঁকা জায়গায় মাউসের ডান দিকের বাটন (Right Click) ক্লিক করুন।
- একটি মেনু বা তালিকা আসবে, সেখান থেকে 'New' অপশনটির ওপর মাউস নিয়ে যান।
- এবার পাশে একটি ছোট মেনু খুলবে, সেখান থেকে 'Folder' লেখাটিতে ক্লিক করুন।
- তৎক্ষণাৎ একটি নতুন ফোল্ডার তৈরি হবে এবং তার নাম লেখার সুযোগ পাবেন। কিবোর্ড দিয়ে আপনার পছন্দমতো একটি নাম লিখুন এবং 'Enter' চাপুন।
ফাইল ও ফোল্ডার সঠিকভাবে গুছিয়ে রাখলে আপনি খুব দ্রুত আপনার প্রয়োজনীয় কাজ খুঁজে পাবেন এবং কম্পিউটারে কাজ করার সময় বাড়তি সময় নষ্ট হবে না।
হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার: কম্পিউটারের দুটি প্রধান দিক
কম্পিউটার মূলত দুটি প্রধান জিনিসের সমন্বয়ে গঠিত: হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার। হার্ডওয়্যার হলো কম্পিউটারের সেই সমস্ত অংশ যা আপনি সরাসরি স্পর্শ করতে পারেন বা দেখতে পারেন, যেমন—মনিটর, কিবোর্ড, মাউস এবং সিস্টেম ইউনিট। হার্ডওয়্যার ছাড়া কম্পিউটার কেবল একটি জড় বস্তু মাত্র। অন্যদিকে, সফটওয়্যার হলো কিছু নির্দেশনার সমষ্টি বা প্রোগ্রাম যা হার্ডওয়্যারকে বলে দেয় ঠিক কী করতে হবে। সফটওয়্যারকে আপনি হাত দিয়ে স্পর্শ করতে পারবেন না, কিন্তু এটি ছাড়া কম্পিউটার কোনো কাজই করতে পারবে না।
সফটওয়্যারকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমটি হলো 'সিস্টেম সফটওয়্যার', যা কম্পিউটার চালানোর মূল ভিত্তি বা অপারেটিং সিস্টেম (যেমন: Windows, macOS বা Android)। দ্বিতীয়টি হলো 'অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার', যা নির্দিষ্ট কোনো কাজের জন্য ব্যবহৃত হয় (যেমন: ইন্টারনেটে ঘোরার জন্য Chrome বা লেখালেখির জন্য MS Word)। তৃতীয়টি হলো 'ইউটিলিটি সফটওয়্যার', যা কম্পিউটারের দেখভাল বা সুরক্ষার কাজ করে (যেমন: অ্যান্টিভাইরাস)। হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যে সম্পর্কটি অনেকটা মানুষের শরীরের সাথে মনের মতো; শরীর (হার্ডওয়্যার) ছাড়া মন কাজ করতে পারে না, আবার মন (সফটওয়্যার) ছাড়া শরীর কোনো কাজ করতে পারে না।
নিচে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মূল পার্থক্যগুলো একটি টেবিলের মাধ্যমে দেওয়া হলো:
| বৈশিষ্ট্য | হার্ডওয়্যার (Hardware) | সফটওয়্যার (Software) |
|---|---|---|
| প্রকৃতি | এটি একটি ভৌত বা শারীরিক যন্ত্রাংশ। | এটি একটি ডিজিটাল প্রোগ্রাম বা নির্দেশ। |
| স্পর্শ | এটি হাত দিয়ে স্পর্শ করা যায়। | এটি স্পর্শ করা যায় না। |
| কাজ | এটি কাজ করার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। | এটি হার্ডওয়্যারকে পরিচালনা করে। |
| উদাহরণ | মনিটর, মাউস, কিবোর্ড, প্রসেসর। | Windows, Chrome, MS Word, Photoshop। |
ইন্টারনেট ও ব্রাউজার: তথ্যের বিশাল জগতে প্রবেশ
ইন্টারনেট হলো সারা বিশ্বের কম্পিউটারগুলোর একটি বিশাল নেটওয়ার্ক বা সংযোগ, যার মাধ্যমে আমরা তথ্য আদান-প্রদান করতে পারি। আর এই ইন্টারনেটে প্রবেশ করার জন্য বা ওয়েবসাইট দেখার জন্য আপনার একটি 'ব্রাউজার' প্রয়োজন। Google Chrome, Microsoft Edge বা Mozilla Firefox হলো জনপ্রিয় কিছু ব্রাউজার। ব্রাউজার হলো এমন একটি সফটওয়্যার যা আপনাকে ইন্টারনেটে বিভিন্ন ওয়েবসাইট খুঁজে পেতে এবং সেগুলো দেখার সুযোগ করে দেয়।
ব্রাউজার চালানোর সময় আপনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ দেখতে পাবেন। সবার উপরে থাকে 'অ্যাড্রেস বার' (Address Bar), যেখানে আপনি ওয়েবসাইটের ঠিকানা (যেমন: google.com) লিখে সার্চ করতে পারেন। ব্রাউজারের আরেকটি চমৎকার সুবিধা হলো 'ট্যাব' (Tab)। একটি ব্রাউজারের ভেতরে আপনি একসাথে অনেকগুলো ওয়েবসাইট বা পেজ খুলে রাখতে পারেন, একেকটি পেজ একেকটি ট্যাবে থাকে। এতে আপনাকে বারবার ব্রাউজার বন্ধ করে নতুন করে খুলতে হয় না।
আপনি যখন অ্যাড্রেস বারে কোনো ঠিকানা লিখে 'Enter' চাপেন, তখন ব্রাউজারটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেই ওয়েবসাইটের সার্ভারের কাছে একটি রিকোয়েস্ট পাঠায়। সার্ভারটি তখন সেই পেজের কোড এবং ছবিগুলো ব্রাউজারের কাছে পাঠিয়ে দেয় এবং ব্রাউজার সেগুলো সাজিয়ে আপনার স্ক্রিনে সুন্দরভাবে প্রদর্শন করে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি মাত্র এক সেকেন্ডের কম সময়ে ঘটে!
ব্রাউজারে দ্রুত কাজ করার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় শর্টকাট নিচে দেওয়া হলো:
- Ctrl + T: ব্রাউজারে একটি নতুন ট্যাব খোলার জন্য।
- Ctrl + W: বর্তমানে খোলা থাকা ট্যাবটি বন্ধ করার জন্য।
- F5: পেজটি রিফ্রেশ বা পুনরায় লোড করার জন্য।
- Ctrl + D: কোনো পছন্দের ওয়েবসাইটকে বুকমার্ক বা সেভ করে রাখার জন্য।
- Ctrl + H: আপনি আগে কোন কোন ওয়েবসাইট ভিজিট করেছেন তার তালিকা বা হিস্ট্রি দেখার জন্য।
এই বিষয়গুলো আয়ত্ত করতে পারলে আপনি খুব সহজেই ইন্টারনেটের বিশাল দুনিয়ায় তথ্য অনুসন্ধান করতে পারবেন।
কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাধারণ কিছু ভুল ও ভুল ধারণা
নতুন ব্যবহারকারীরা অনেক সময় কিছু ভুল করে থাকেন যা দীর্ঘমেয়াদে কম্পিউটারের ক্ষতি করতে পারে। সবচেয়ে বড় ভুল হলো কম্পিউটার বন্ধ করার সময় সরাসরি মেইন সুইচ বা প্লাগ খুলে ফেলা। অনেকে মনে করেন এতে দ্রুত কাজ শেষ হবে, কিন্তু আসলে এতে আপনার সেভ না করা কাজগুলো হারিয়ে যেতে পারে এবং হার্ডওয়্যারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। কম্পিউটার সবসময় Start মেনু থেকে Shut down করার অভ্যাস করুন।
আরেকটি বড় ভুল হলো বিনামূল্যে ব্যবহারের আশায় 'ক্র্যাক' বা পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করা। অনেকে মনে করেন এগুলো ব্যবহার করলে কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু বাস্তবে এই সফটওয়্যারগুলোর ভেতরে প্রায়ই ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার লুকানো থাকে। এটি আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি বা পাসওয়ার্ড চুরি করতে পারে। তাই সবসময় বৈধ এবং ফ্রি বিকল্প সফটওয়্যার ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।
অনেকে আবার মনিটরে "No Signal" লেখা দেখলে ঘাবড়ে যান। মনে রাখবেন, এটি সাধারণত কোনো বড় সমস্যা নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কেবলটি ঢিলা হয়ে গেলে বা মনিটরের ইনপুট সোর্স ভুলভাবে সেট করা থাকলে এমনটি হয়। তাই ভয় না পেয়ে প্রথমে কেবলগুলো চেক করুন।
অনলাইন নিরাপত্তা: নিজেকে ও আপনার তথ্যকে সুরক্ষিত রাখা
বর্তমানে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহারের পাশাপাশি অনলাইন নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। ইন্টারনেটে অনেক সময় প্রতারক বা হ্যাকাররা বিভিন্ন কৌশলে আপনার তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। যেমন—অপরিচিত ইমেইল বা মেসেজে আসা সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা। এই ধরনের লিংকে ক্লিক করলে আপনার কম্পিউটারে ভাইরাস ঢুকতে পারে বা আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হতে পারে।
নিরাপদ থাকার জন্য কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলা উচিত:
- সবসময় শক্তিশালী এবং আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন যা অন্য কেউ সহজে অনুমান করতে পারবে না।
- অপরিচিত কোনো ওয়েবসাইট বা ইমেইল থেকে আসা ফাইল বা অ্যাটাচমেন্ট ডাউনলোড করবেন না।
- আপনার কম্পিউটারে একটি ভালো মানের অ্যান্টিভাইরাস বা ইউটিলিটি সফটওয়্যার রাখুন যা ভাইরাস শনাক্ত করতে পারে।
- অনলাইনে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা লেনদেন করার সময় ওয়েবসাইটের ঠিকানাটি (URL) ভালো করে দেখে নিন।
মনে রাখবেন, ইন্টারনেটে আপনি যা করছেন বা যা দেখছেন, তার অনেক কিছুই আপনার ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট হিসেবে থেকে যায়। তাই সবসময় সতর্ক থাকা এবং নিরাপদ অভ্যাস গড়ে তোলা আপনার দীর্ঘমেয়াদী কম্পিউটার ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।
কম্পিউটার শিক্ষা — সবার জন্য উন্মুক্ত
যিনি কখনো কম্পিউটার ছুঁয়ে দেখেননি, তাঁর জন্যও। কম্পিউটার চালু করা থেকে ফাইল গোছানো, টাইপিং, ইন্টারনেট, ইমেইল, ডকুমেন্ট, স্প্রেডশিট আর নিরাপদ থাকা — একদম শুরু থেকে, ধাপে ধাপে।
শেষ কথা
কম্পিউটার চালানো শেখা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আপনি যদি কম্পিউটার চালু করা, মাউস-কীবোর্ড ব্যবহার, ফাইল গুছিয়ে রাখা এবং ইন্টারনেটের প্রাথমিক বিষয়গুলো আয়ত্ত করতে পারেন, তবে আপনি একজন আত্মবিশ্বাসী ব্যবহারকারী হয়ে উঠবেন। নিয়মিত অনুশীলনই আপনাকে দক্ষ করে তুলবে। আপনি যদি একদম শুরু থেকে ধাপে ধাপে সব শিখতে চান, তবে আমাদের কোর্সটি আপনার জন্য হতে পারে একটি আদর্শ মাধ্যম।
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
কম্পিউটার চালানো শিখতে কতদিন সময় লাগে?
এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার অনুশীলনের ওপর। তবে প্রাথমিক বিষয়গুলো শিখতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
ল্যাপটপ নাকি ডেস্কটপ, কোনটি দিয়ে শেখা শুরু করা ভালো?
যদি আপনার বহনযোগ্যতা প্রয়োজন হয়, তবে ল্যাপটপ ভালো। আর যদি কম খরচে বেশি শক্তিশালী কম্পিউটার চান, তবে ডেস্কটপ দিয়ে শুরু করা সুবিধাজনক।
কম্পিউটার স্লো হয়ে গেলে কী করা উচিত?
প্রথমেই কম্পিউটারটি Restart করে দেখুন। যদি সমস্যা না মেটে, তবে অপ্রয়োজনীয় ফাইল বা অ্যাপগুলো ডিলিট বা আনইনস্টল করতে পারেন।
ইন্টারনেট ব্যবহার করতে কি সবসময় টাকা লাগে?
হ্যাঁ, ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য আপনাকে একটি ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (ISP) বা মোবাইল ডাটা প্যাকের মাধ্যমে সংযোগ নিতে হবে।
কম্পিউটার কি ভাইরাস থেকে রক্ষা করা সম্ভব?
হ্যাঁ, নিয়মিত অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করা এবং সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করার মাধ্যমে কম্পিউটারকে ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
